কক্সবাংলা ডটকম(২৮ আগস্ট) :: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল অনুমোদনের জন্য আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
ওই বৈঠকে অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জারি হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ওই বৈঠকের এজেন্ডায় নবম পে-স্কেল অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। এ সুপারিশ দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বইটির ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক অংশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর গত বছরের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।













