শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১,৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া

🗓 শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডেস্ক :: মালয়েশিয়া থেকে অন্তত ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার।

নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি—মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন সতর্কতার মধ্যেই স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে কুয়ালালামপুর।

খবর আল জাজিরার।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে।

এর আগে জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার ৫ হাজার নিপীড়িত রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

দেশটিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের উত্তেজনা ও বিরোধ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ হাজারের বেশি মানুষকে শরণার্থী নিবন্ধন নথি কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তাঁদের বেশির ভাগই জাতিগত রোহিঙ্গা।

একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী আরও ৫ হাজার মানুষকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে মিয়ানমারের ১০ হাজার ৩৮৮ নাগরিক আটক ছিলেন। তবে তাঁদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন পরিস্থিতি, আশ্রয়ের আবেদন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই যাচাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বসবাসের পরিবেশ তৈরি হয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছিল, দেশে ফেরার পর কোনো শরণার্থীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাঁকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না।

মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও বলেছিলেন, দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া এমন কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠাবে না, যিনি দেশে ফিরে নিপীড়নের শিকার হতে পারেন বা যার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বর্তমানে নেই।

সংগঠনটির অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখনো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হলে তাঁদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। তবে দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের স্বীকৃতিও দেয় না।

এরপরও মালয়েশিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

এদিকে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। মিয়ানমারে শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসা এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই মুসলিম।

তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের স্বীকৃত কোনো জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। ফলে রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর