সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা বহু বছরের অর্জিত অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন International Committee of the Red Cross (আইসিআরসি)-এর প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ।
ইরাক সফর শেষে তিনি বলেন, এ ধরনের সংঘাত শুধু শান্তি ও নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।
দুই দিনের ইরাক সফর শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইরাকের লাখো মানুষ এখনও যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বহন করছে। তাদের আবারও সহিংসতার চক্রে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।
ইরাকের পুনরুদ্ধারের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি।”
আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সফরকালে তিনি ইরাকের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
এর মধ্যে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নাজার আমিদি, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি, পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি, হাই জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফায়েক যায়দান এবং বিচারমন্ত্রী খালেদ শোয়ানি।
এছাড়া Iraqi Red Crescent Society-এর প্রেসিডেন্ট ড. ইয়াসিন আল-মামুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে আইসিআরসি ও ইরাকি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চলমান মানবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে মিরজানা স্পোলিয়ারিচ বাগদাদের কারখ সেন্ট্রাল কারাগারও পরিদর্শন করেন। সেখানে আইসিআরসি বন্দিদের, বিশেষ করে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের, পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করছে।
একইসঙ্গে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান রেখে আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে আইসিআরসি।
তিনি জানান, সম্প্রতি ইরাক সরকার সিরিয়া থেকে স্থানান্তরিত প্রায় ছয় হাজার বন্দিকে গ্রহণ করেছে, যা যেকোনো দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এসব বন্দির মধ্যে শত শত শিশু রয়েছে, যারা নিজেদের ইচ্ছার বাইরে এক দীর্ঘ সংঘাতের শিকার হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাভাবিক ভবিষ্যতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত অবস্থায় শিবিরে জীবন কাটিয়েছে।
আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “এই বিশাল দায়িত্ব শুধু ইরাকের একার বহন করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রকে এগিয়ে এসে একটি টেকসই ও মানবিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”














