রবিবার ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে : নতুন নীতিতে উদ্বেগ

🗓 শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

👁️ ৩০ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

👁️ ৩০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ মে) :: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের গ্রিন কার্ড বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেতে হলে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে বলে নতুন ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন নীতিতে এ পরিবর্তন অভিবাসী, আইনজীবী ও সহায়তা সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিভাগ ইউএসসিআইএস (USCIS) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে থাকা এবং স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার ইচ্ছুক বিদেশিদের নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে, যদি না তারা “ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি”-র আওতায় পড়েন।

কোন আবেদনকারী এ বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণ করবেন ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটকদের মতো অভিবাসী নন—এমন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও সীমিত সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাই তাদের সফরকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা দেশটির ভেতর থেকেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পেতেন।

এর মধ্যে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা ব্যক্তি, কর্মভিসাধারী, শিক্ষার্থী, শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন আরও কঠোর করা হচ্ছে।

বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডাগ র‌্যান্ড বলেন, “এ প্রশাসনের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—যত কমসংখ্যক মানুষকে সম্ভব স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া এবং নাগরিকত্বের পথ সীমিত করা।”

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন।

তবে নতুন নীতি কবে কার্যকর হবে, আবেদনকারীদের পুরো প্রক্রিয়ার সময় বিদেশে থাকতে হবে কিনা কিংবা চলমান আবেদনগুলোর ওপর এর প্রভাব কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ইউএসসিআইএস।

সংস্থাটি এপি-কে পাঠানো এক ই-মেইল বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা “অর্থনৈতিক সুবিধা” বা “জাতীয় স্বার্থে” অবদান রাখেন, তারা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন। অন্যদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, যেসব দেশের নাগরিকদের জন্য ইতোমধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত বা সীমিত রয়েছে, তাদের নিজ দেশে পাঠানো হলে তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে নাও পারেন।

মানবিক ও শরণার্থী পুনর্বাসন সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিলিফ জানিয়েছে, অনেক দেশে মার্কিন দূতাবাস বা অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া কার্যকর না থাকায় পরিবারগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। তারা একে “ক্যাচ-২২” পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেছে।

অভিবাসন আইনজীবীদের সংগঠন আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, “ইউএসসিআইএস কয়েক দশকের স্ট্যাটাস পরিবর্তনের প্রচলিত ব্যবস্থাকে ওলটপালট করার চেষ্টা করছে। এটি গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী প্রায় সবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”

তার মতে, এ নীতির আওতায় মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা ব্যক্তি, মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসী, চিকিৎসক, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় ভিসাধারীরাও পড়তে পারেন। তিনি আরও বলেন, বিদেশে অনেক মার্কিন কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষার সময় এক বছরেরও বেশি হতে পারে।

এদিকে ইউএসসিআইএস দাবি করেছে, এই পরিবর্তন আইনের “মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়া” এবং বিদ্যমান একটি “ফাঁকফোকর” বন্ধ করার অংশ। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে এটি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর