এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকা লাগোয়া লামা উপজেলার আজিজনগরে সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার ভোর ৪ টার দিকে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আজিজনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড রোডপাড়ায় গ্রামে ঘটেছে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ দৈনিক সমকাল পত্রিকার লোহাগাড়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ জানান, শনিবার ভোররাত ৪ টার দিকে প্রায় ৮/১০ জনের একটি ডাকাত দল হঠাৎ করে আমাদের বাড়িতে হানা দেয়। তখন ৩ জন ডাকাত ছাদ বেয়ে উপরে উঠে বাড়িতে প্রবেশ করে।
পরে ডাকাতরা আমার মা-বাবাকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে আলমারি ভেঙ্গে নগদ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ও একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে যায়।
তখন বাকী ডাকাতেরা বাড়ির বাহিরের অবস্থান করে পার্শ্ববর্তী ঘরগুলোর গতিবিধি লক্ষ্য করছিল যাতে অন্যকোন মানুষ বের হতে না পারে।
কায়সার হামিদ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আমি পরিবার নিয়ে লোহাগাড়ার বাসায় থাকি। প্রয়োজন সাপেক্ষে আজিজনগর নিজ বাড়িতে আসা-যাওয়া করি।
ঘটনারদিন বাড়িতে আমার বৃদ্ধ বাবা মা ছিলেন। তাদের কাছে গরু বিক্রি করা ক্যাশ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। ডাকাতরা সেগুলো নিয়ে গেছে।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ তাঁর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় আজিজনগর ফাঁড়ি পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেন, ৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে পারে, অথচ ডাকাতির সময় আজিজনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আমিনুর রহিমকে ১০ থেকে ১২ বার ফোন করেছি, কিন্তু তাঁর কোন সাড়া পাইনি। তখন তিনি গভীর ঘুমে অচেতন ছিলেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
পরে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেওয়ার ১৫/২০ মিনিট পর তিনি (আইসি) কল ব্যাক করেন। তখনও ওনাকে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বাড়িতে আসতে অনুরোধ করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এসেছেন ডাকাতি শেষ হবার তিনঘণ্টা পর সকাল ৭ টার দিকে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড (রোড পাড়া) ও পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ১ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিগত ১০ দিনে ৫টি ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে।
কিন্তু ডাকাতি বন্ধে লামা বা চকরিয়ার থানার কোনধরনের ভূমিকা বা কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এবিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম ঐ বাড়িতে পাঠানো হয়। অসযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জকে ইতোমধ্যে বিষয়টা নিয়ে বকাঝকা করা হয়েছে।
অপরদিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, উত্তর হারবাং এলাকায় কয়েকদিন আগে ডাকাতির ঘটনা শুনেছি। একটার মামলাও নেওয়া হয়েছে । বিষয়টা নিয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করছে।














