নজরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া :: দীর্ঘ সাত মাস ভারতের কারাগারে আটক থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী।
প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেদের মধ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার ৭৭ জন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেদের আটক থাকা চারটি ফিশিং বোটে তুলে দিয়েছে। তারা বর্তমানে সাগরপথে বাংলাদেশের জলসীমার দিকে রওনা হয়েছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে আগামী ৭ জুন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেদের সঙ্গে আটক থাকা চারটি ফিশিং বোটও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জেলেদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের এক সরকারি পত্রে জানানো হয়েছে, ভারতে আটক ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী এবং চারটি ফিশিং বোট প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জানা যায়, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে।
এ সময় চারটি ফিশিং বোটও জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, এর আগে কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে জেলেদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়।
এদিকে জেলেদের দেশে ফেরার খবরে কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ,ন,ম, শহীদ উদ্দিন ছোটন জানান, বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৪৪ জন জেলেসহ ভারতে আটক বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের নিয়ে ভারতীয় কোস্ট গার্ড স্টেশন ফ্রাজারগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সম্পর্কে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক নৌ-নির্দেশনা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, আটক চারটি ফিশিং বোটের মালিকদের মধ্যে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন মাঝি ও নুর মোহাম্মদ সওদাগর, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের রত্নসেন জলদাশ এবং ইউছুফ সওদাগর রয়েছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৯১ জন জেলের দেশে ফেরার খবরে কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় জনপদে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যরা এখন প্রিয়জনদের নিরাপদে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।














