সোমবার ৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পুনর্গঠন ও মেরামতে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের চিন্তা

🗓 রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

👁️ ২৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

👁️ ২৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ইরানের কারণে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পুনর্গঠন ও মেরামতের কাজে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন এক সময়ে এই আলোচনা সামনে এসেছে, যখন যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মহল ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

শুধু বর্তমান ক্ষয়ক্ষতিই নয়, ভবিষ্যতে ইরানের হামলায় নতুন কোনো ক্ষতি হলে সেগুলোর মেরামতেও ইরানি সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

শান্তি আলোচনায় নতুন জটিলতা

এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কয়েক দিন আগেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের এক উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি।

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর পরপরই ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কিছু সম্পদের ক্ষতি হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উভয় দেশই এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

US, Iran Consider Two-Week Ceasefire Extension to Advance Peace Talks - Bloomberg

পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ

সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উদ্দেশে বিশেষ বার্তা নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও বলা হয়েছে।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম বেড়েছে এবং বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বাধার মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই নতুন উত্তেজনা এড়িয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

শিশু ধর্ষণ বেড়েছে তিন গুণ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর