সোমবার ৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের সর্বোচ্চ : চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী

🗓 রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৭ জুন) :: দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত মে মাসে বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে বেশি ছিল। এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম একাধিক দফায় বাড়ানোর প্রভাব বাজারব্যবস্থার প্রায় সব খাতে পড়েছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মূল্যস্ফীতির হিসাবে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ সময় গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। মে মাসে শহরের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে ৩১ মে আবারও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়।

ফলে পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও অনেক কম। মে মাসে সাধারণ মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা—তিন খাতেই সামান্য মজুরি বৃদ্ধি হলেও তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ও সীমিত আয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের ব্যয় বাড়তে থাকায় এসব পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জেনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, সরকার পরিসংখ্যান প্রকাশে কোনো ধরনের তথ্য গোপন করছে না। তিনি বলেন, “বিবিএস যে তথ্য সংগ্রহ করছে, সেটিই স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে কোনো লুকোচুরির সুযোগ নেই।”

এই বিভাগ এর আরো খবর

শিশু ধর্ষণ বেড়েছে তিন গুণ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর