এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় জনপদের (নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা) ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের তেচ্ছাপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় মনজুর আলম ও মোজাম্মেল হক নামের দুইজনের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘটেছে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটতে পারে। কারণ সকাল বেলায় অন্য কোন উৎস থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রথমে একটি বাড়িতে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। এরপর আগুনের স্ফুলিঙ্গ মুহূর্তের মধ্যে পাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
এতে দুইটি বাড়ি এবং বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, আগুন লাগার পরপর স্থানীয় লোকজন প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দুইটি বাড়ি পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডে দুই বাড়ির ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দিনের বেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি হওয়ায় দুই বাড়ির লোকজন নিরাপদে সরে আসতে পেরেছে। সেকারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অগ্নিকান্ডে সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নারী-পুরুষ শিশু সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে দুই বাড়ি পুড়ে যাবার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছ তা নিরুপন করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, আগুনে দুইটি বাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারকে জানানো হয়।
তাঁর নির্দেশে মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে।
এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটোর ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান লিপিবদ্ধ করেন।
তিনি বলেন, তাঁর আগে দুপুরে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক কিছু পরিমাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।













