শুক্রবার ৬ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে মদ-সিগারেটের দাম বাড়িয়েছি বলে বিরোধীদল মনক্ষুন্ন হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

🗓 শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

👁️ ১৮৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

👁️ ১৮৪ বার দেখা হয়েছে

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: একদিনের সফরে কক্সবাজার এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে রয়েছে তার সহধর্মীনি ডা.জুবাইদা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ,এমপি ও বিভিন্ন স্তরের বিএনপি নেতারা।

প্রবল বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শনিবার (১৩জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুন:খনন উদ্যোশে রওয়ানা দেন।

এসময় উনার গাড়িতে সামনের সিটে বসা ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা.জুবাইদা রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ।

পাতলী খাল পুন:খনন কাজের উদ্ধোধন শেষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, লবনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিসপত্র আছে সেগুলোর উপর অযৌক্তিক ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। যাতে করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে, এই বাজেট গণবিরোধী। এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বড়ানোা হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। আশা করি, এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’

May be an image of one or more people and crowd

তারেক রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয় বাজেটে মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধী দল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তাই তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প বাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে এবং সে কারণেই শিল্প বাণিজ্য যদি গড়ে উঠতে পারে আমাদের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে এবং সে কারণেই দেশীয় সকল শিল্প দেশে উৎপন্ন হয়, যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয়, একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর উপরে আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি যাতে করে দেশে যেই দ্রব্যটি উৎপাদিত হচ্ছে সেই দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি যাতে সাপোর্ট পেতে পারে তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়’।

‘আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। কাজেই জনগণই হচ্ছে, আমাদের শক্তি। জনগণের সমর্থন হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সমর্থন। জনগণের শক্তি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের সাথে জনগণের সমর্থন আছে বলেই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’

‘এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য আমরা কাজ করে যাব। কারণ এই দেশই হচ্ছে বিএনপির প্রথম ঠিকানা। এই দেশই হচ্ছে বিএনপির শেষ ঠিকানা। এই দেশ আমাদেও,এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরা শান্তিতে থাকতে পারবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ- কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই

বলি, করব কাজ, গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

May be an image of dais and text that says 'তারে'

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন..

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা অর্থাৎ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। তিনি ও তার স্ত্রী ডা.জুবাইদা রহমান পার্কেও বিভিন্ন প্রাণীর বেষ্টনী ঘুরে ঘুরে দেখেন। এসময় ডা.জুবাইদা রহমান বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ধারণ করেন তার মোবাইলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্ত্রী ডা.জুবাইদা রহমান সাফারি পার্কেও পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাফারি পার্কে একটি গাছের চারা রোপন করেন।

May be an image of panda

দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসুচীর উদ্ধোধন..

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালুমঘাটস্থ বনবিভাগের আওতাধীণ অভয়রাণ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি চারা রোপন কর্মযজ্ঞের উদ্ধোধন করেন। এসময় তিনি একটি গাছের চারা রোপনও করেন।

জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত..

মালুমঘাট এলাকায় বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের উদ্ধোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে সড়ক পথে পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা ইউনিয়নের জুলাই গণঅভ্যাত্থানের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। এসময় শহীদ ওয়াসিমের বাবা-মাকে শান্তনা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।

নবসৃষ্ট পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন…

এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নবসৃষ্ট পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন করেন। ফলক উন্মেচন শেষে পেকুয়াবাসীর উদ্যোশে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আমন্ত্রণে তার বাসভবণ সাঈদ ম্যানসনে মধ্যাহ্ন ভোজে মিলিত হন।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবসৃষ্ট মাতামুহুরীর উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন করতে সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবণ থেকে রওয়ানা দেন।

মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,“দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, কক্সবাজারের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন”। বিএনপির পাশে থেকেছেন, বিএনপি জনগণের দল, তাই জনগণের কথা চিন্তা করে বলেই বিএনপিকে বারবার নির্বাচিত করেন।

তিনি বলেন, গত ২৪-২৫ বছর আগে আমি কক্সবাজার এসেছিলাম। তখনও যেই সড়ক দেখে গেছি, এখনও সেই সড়ক রয়ে গেছে। সম্প্রসারণ করা হয়নি। আমি কথা দিচ্ছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ থেকে ৬ লেনে উন্নিত করা হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ মৎস্য চাষ, ধান চাষ ও লবণ চাষের সাথে সম্পৃক্ত। তাই এই অঞ্চলের মানুষ যাতে লবণের ন্যায্যা মূল্য পায়, সেজন্য প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার আগমনকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে কক্সবাজার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে ভিড় করেছেন স্থানীয় জনতা।

জানা গেছে, রাতে শহরের একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে তার। এছাড়াও তিনি সমুদ্র সৈকতও পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।

দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে রাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর