কক্সবাংলা ডটকম(৯ আগস্ট) :: ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান Advanced Medium Combat Aircraft (AMCA) প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগার সম্ভাবনার মধ্যে রাশিয়ার Su-57E যুদ্ধবিমান নিয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
তবে ভারতীয় সরকার এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক Su-57 কেনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
২০২৫ সালের Aero India প্রদর্শনীতে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে Su-57E সরবরাহের পাশাপাশি দেশটির মাটিতে বিমানটি উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়।
রুশ পক্ষ জানিয়েছিল, সম্ভাব্য সহযোগিতার আওতায় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভারতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হতে পারে।
ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত দেশটির নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচির সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে।
AMCA প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা-শিল্প সক্ষমতা গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও এর উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ফলে অন্তর্বর্তী সময়ে বিদেশি উৎস থেকে উন্নত যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে তাদের F-35 যুদ্ধবিমান ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
২০২৫ সালের Aero India-তে মার্কিন F-35 এবং রুশ Su-57—দুই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানই একই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিল, যা ভারতের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ায়।
রাশিয়ার প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা।
রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা রপ্তানি সংস্থা Rosoboronexport জানিয়েছে, সম্ভাব্য সহযোগিতায় বিমান প্রযুক্তির পাশাপাশি ইঞ্জিন, রাডার, সফটওয়্যার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে।
ফলে Su-57E নিয়ে রুশ প্রস্তাবকে শুধু একটি যুদ্ধবিমান কেনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং AMCA প্রকল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের দিক থেকেও দেখা হচ্ছে।
তবে ৪০টি Su-57 কেনা বা ২০৩০ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।
এ কারণে বিষয়টি বর্তমানে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা-সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ ক্রয়-পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করাই অধিকতর যথাযথ।













