এম জুবাইদ,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি ঘোনা ও আন্নর আলী মাতবর পাড়ার ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় সাবেক গুলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে “ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬” শীর্ষক এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুজিবুল হক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. দিদারুল করিম, পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজের ডিরেক্টর ও সাংবাদিক এম. জুবাইদ, নুর আয়েশা খাঁন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইসমাঈল খাঁন, পল্লী চিকিৎসক রহিম উদ্দিন, সোনালী বাজার সাজেদা বেগম বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক আরিফ হোছাইন।
এছাড়াও কৃতি শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজের এস. এম. ফরহাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বদিউল আলম, সমাজসেবক শোয়াইবুল ইসলাম, আমির হোছাইন, হেলাল উদ্দিন।
আবদুল হাকিম আসবাদের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষার্থীর জীবনে এসএসসি বা দাখিল সমমান পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এটিই সাফল্যের শেষ ধাপ নয়।
মাধ্যমিকের পর সঠিক বিষয় নির্বাচন, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর ভবিষ্যৎ সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের পেছনে না ছুটে জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেশন পরিচালনা করেন পেকুয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ শাওন।
সেশনে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সম্ভাবনা, পছন্দের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার কৌশল, নিজের সক্ষমতা ও আগ্রহ যাচাই, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত বা স্থানীয় এলাকার শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যেই মেধা ও সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক সময়ে ক্যারিয়ার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাব থাকে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখানো এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখানোই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মই সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে।”
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪১ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও গাছের চারা তুলে দেন অতিথিরা। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও দেওয়া হয়।












