কক্সবাংলা ডটকম :: এক দিকে, আদালতে হাজিরা। অন্য দিকে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি। দিনদুয়েক ধরে নানা ঘটনায় নাজেহাল অভিনেত্রী পরীমণি।
পাঁচ বছর ধরে চলা মামলায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহফুজুর রহমান অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
যদিও বৃহস্পতিবার সাতসকালেই সেই মামলায় জামিন পেয়েছেন পরীমণি। তবে তারই মাঝে আরও একটি ভিডিয়ো ভাইরাল। সেখানেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায় অভিনেত্রীকে।
সূত্রের খবর, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল।
আজ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি।
এ কারণে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়। তবে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে এ মামলা করেন। অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
এর আগে ২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী, শাহ শহিদুল আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেছিলেন পরীমনি।
পরীমনি ও আদালত
অভিনয়ের পাশাপাশি আদালতেও নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়েছে পরীমনিকে। মাদক মামলার অভিযোগ, পাল্টা মামলা, হাজিরা, রিমান্ড ও জামিন মিলিয়ে কয়েক বছর ধরে একাধিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
২০২১
১৫ সেপ্টেম্বর
মাদক মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজিরা দেন পরীমনি। বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
১০ অক্টোবর
আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন পরীমনি। শুনানির সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আদালত তাঁকে জামিন দেন। আদালত থেকে জানানো হয়, পরীমনির কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরে মামলাটি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
২৬ অক্টোবর
মাদক মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার শুনানিতে অংশ নিতে সকালে আদালতে হাজির হন পরীমনি। তিনি জামিনের আবেদন করলে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক তা মঞ্জুর করেন। অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
১৫ নভেম্বর
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মাদক মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও মো. কবীর হাওলাদার।
২০২২
২৯ নভেম্বর
পরীমনি ও তাঁর তৎকালীন স্বামী অভিনেতা শরীফুল রাজ একসঙ্গে আদালতে যান। এদিন মামলার আসামি অমি ও শহিদুল হাজিরা দেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আদালত তাঁর আংশিক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
২০২৩
১১ জানুয়ারি, ৬ মার্চ, ২৩ মে ও ১৩ সেপ্টেম্বর
সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত এসব তারিখে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হননি। ফলে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত হয়।
২৪ জুলাই
বোট ক্লাব মামলায় আংশিক সাক্ষ্য দেন পরীমনি। আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিজের ট্রমার কথা জানিয়ে ক্যামেরা ট্রায়ালের আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
২০২৪
আদালতে হাজির না হয়ে পরপর তিন দফা সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করেন পরীমনি। এ কারণে আসামিপক্ষকে এক হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
২৪ জুন
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা পাল্টা মামলায় জামিন নিতে আদালতে যান পরীমনি। সেদিন বাদী আদালতে উপস্থিত না থাকলেও পরীমনির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাঁর জামিনে আপত্তি জানাননি। পরে আদালত পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন।
২০২৫
২৭ জানুয়ারি
আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পরীমনি। সেদিন হাস্যোজ্জ্বল মুখে আদালতে যান তিনি। পরে জামিন পান। আদালতের বাইরে তাঁর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সেদিন সংবাদমাধ্যমকে পরীমনি বলেছিলেন, ‘আমি খুব খুশি যে আপনাদের এত ভালোবাসা পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আদালতের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাব। আজ আমি আদালতের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
২৬ মে
বোট ক্লাব মামলায় সাক্ষ্য দিতে আবার আদালতে যান পরীমনি। তবে প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০২৬
১০ ফেব্রুয়ারি
অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি। এ কারণে ঢাকা বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা তাঁর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৯ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নার্গিস পারভীন জানান, সেদিন মামলাটির শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে আসতে পারেননি। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময় চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
আবেদনে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি পরীমনির অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারছেন না।
৯ আগস্ট
ঢাকা বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে পরীমনির করা মামলায় এদিন তাঁকে জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। ফলে জেরার নতুন তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জানান, তাঁর মক্কেল আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও সড়কের যানজটে আটকে পড়েন। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে হাজির হতে পারেননি।
১০ আগস্ট
সন্তানের অসুস্থতা ও জন্মদিনের কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে করা মাদক মামলায় অভিযোগ গঠনসংক্রান্ত শুনানি পিছিয়ে যায়। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, পরীমনির সন্তানকে টিকা দেওয়ার পর জ্বর হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন তাঁর সন্তানের জন্মদিন থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
২৯ সেপ্টেম্বর
পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন পিছিয়ে যায়। ১৭ নভেম্বর শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত। পরীমনি পায়ে ব্যথার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি বলে জানান তাঁর আইনজীবী।
শুনানিতে আইনজীবি নীলাঞ্জনা রিফাত জানান, কিছুদিন আগে পায়ে আঘাত পাওয়ার কারণে অসুস্থ ছিলেন পরীমনি। হঠাৎ ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর চলাফেরায় অসুবিধা হচ্ছিল। এ কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। তাই শুনানি পেছানোর আবেদন করেন।












