শুক্রবার ৬ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দামে বাংলাদেশে : এলপিজি আমদানি ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় চাপে ভোক্তা

🗓 শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ২১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ২১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৬ নভেম্বর) :: দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এখন ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে এই জ্বালানি পণ্যটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

একই পরিমাণ এলপিজি কিনতে ভারতের কলকাতায় গ্রাহককে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮০ টাকা। নেপালে ১ হাজার ৪৩০, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৫৭০ এবং পাকিস্তানে প্রায় ১ হাজার ৫৯০ টাকা। এমনকি মালদ্বীপেও ১২ কেজি এলপিজির সমপরিমাণ দাম প্রায় ১ হাজার ৯৩০ টাকা।

অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে।

তবে দেশভেদে সিলিন্ডারের প্রচলিত ধারণক্ষমতা, সরকারি ভর্তুকি, করকাঠামো ও বিপণনব্যবস্থার পার্থক্য থাকায় এসব মূল্যকে সমপরিমাণ গ্যাসের আনুমানিক তুলনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধিই দায়ী নয়।

আমদানি ও পরিবহন ব্যয়, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর, বিপণন ও খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে দুর্বল তদারকিও এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সরকারি ভর্তুকি এবং দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তির মাধ্যমে ভোক্তাপর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ রয়েছে।

দুই মাসে বেড়েছে ৪৭৫ টাকা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৮টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়। এর আগে অক্টোবরে দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ২২৩ টাকা। তারও আগে সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সে হিসাবে মাত্র দুই মাসে দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের এলপিজির খুচরা পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে, যা অক্টোবরে ছিল ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস পিএলসির সরবরাহ করা ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের ভোক্তামূল্য ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারের দাম বেসরকারি খাতের ১২ কেজির সিলিন্ডারের তুলনায় কম। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ও বাজারে প্রাপ্যতা কতটা, সেটিও ভোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যবৈষম্য

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি কর্তৃপক্ষ, বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি পর্যায়ে রয়েছে।

ভারতে গৃহস্থালি পর্যায়ে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৭৫ টাকা। সে হিসাবে ১২ কেজির দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০ টাকা।

নেপালে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৬৯০ টাকা। ১২ কেজির হিসাবে এর দাম প্রায় ১ হাজার ৪৩০ টাকা। দেশটিতে এলপিজি আমদানি ও মূল্য নির্ধারণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত নেপাল অয়েল করপোরেশন। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়মূল্য বাড়লেও ভোক্তাদের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতি সিলিন্ডার বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

পাকিস্তানে ১১ দশমিক ৮ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৬০ টাকা। ১২ কেজির হিসাবে এর দাম প্রায় ১ হাজার ৫৯০ টাকা। দেশটিতে এলপিজির ওপর ১৮ শতাংশ বিক্রয়করসহ বিভিন্ন শুল্ক ও পরিবহন ব্যয় যুক্ত থাকলেও স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সুবিধায় দাম তুলনামূলক কম রয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাসের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৬৩৫ টাকা। ১২ কেজির হিসাবে তা প্রায় ১ হাজার ৫৭০ টাকা। মালদ্বীপের রাষ্ট্রায়ত্ত মালদ্বীপ গ্যাসের ১০ কেজির সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১ হাজার ৬১০ টাকা। সে হিসাবে ১২ কেজির দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯৩০ টাকা।

অন্যদিকে, ভুটানে প্রায় সাত মাস আগে রাজধানী থিম্পুতে ১৪ দশমিক ২ কেজির ভর্তুকিহীন এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২ হাজার টাকা। ১২ কেজির হিসাবে এর দাম প্রায় ১ হাজার ৬৯০ টাকা। ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডারের দাম ছিল আরও কম।

সরকারি ভর্তুকি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

ভারতে গৃহস্থালি এলপিজির প্রায় ৮৮ শতাংশ সরবরাহ করে সরকারি মালিকানাধীন তিনটি জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি—ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির অধিকাংশ পরিবার রান্নার গ্যাস পেয়ে থাকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এলপিজি সিলিন্ডারে প্রত্যক্ষ ভর্তুকির ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে প্রতি ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭৫ টাকার সমপরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছিল। এ ছাড়া নির্দিষ্ট নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বছরে প্রথম চারটি সিলিন্ডার রিফিলে প্রায় ৩৯৫ টাকার সমপরিমাণ প্রত্যক্ষ ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে।

নেপালেও রাষ্ট্রায়ত্ত নেপাল অয়েল করপোরেশন আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপের একটি অংশ নিজেই বহন করছে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে পুরো চাপ ভোক্তার ওপর না দিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায়ও গৃহস্থালি এলপিজির বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত লিট্রো গ্যাসের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশে সরকারি ভর্তুকি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তি এবং বড় আকারে পণ্য পরিবহনের সুবিধা ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য কম রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের একচেটিয়া প্রভাব

বাংলাদেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সৌদি আরামকো ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাজারদর বা কন্ট্রাক্ট প্রাইসের (সিপি) ভিত্তিতে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এর সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, আমদানি কর, মজুদ, বোতলজাতকরণ, পরিবহন এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন যুক্ত হয়।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি কিংবা ডলারের বিনিময় হার বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ে। সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণশুনানির পর বিপণন, মজুদ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণের কয়েকটি খাতে কমিশন ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করে বিইআরসি নভেম্বরের মূল্য নির্ধারণ করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। তুলনামূলকভাবে ভারতে গৃহস্থালি এলপিজির ওপর জিএসটি ৫ শতাংশ। পাকিস্তানে বিক্রয়কর ১৮ শতাংশ হলেও দেশটির এলপিজির দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম।

এতে স্পষ্ট হয়, শুধু করের হার দিয়ে কোনো দেশের এলপিজির চূড়ান্ত মূল্য ব্যাখ্যা করা যায় না। স্থানীয় উৎপাদন, আমদানি চুক্তি, পরিবহন ব্যয়, বাজার কাঠামো এবং সরকারি নীতিও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অতিরিক্ত মুনাফা ও তদারকির ঘাটতি

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা ফেলো মুনতাসির মুর্শেদ মনে করেন, দেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার পেছনে আমদানি ব্যয়ের পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও বাজার তদারকির অভাবও দায়ী।

তিনি বলেন, এলপিজি বিপণনের প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা রয়েছে। অপারেটর থেকে শুরু করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা—প্রত্যেক পর্যায়ে নির্ধারিত দামের বাইরে বেশি অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় এবং বিক্রয়মূল্য পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তার মতে, সরবরাহ সংকটের অজুহাতে অনেক সময় অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়। অথচ এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর বিশেষ টাস্কফোর্স বা নিয়মিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে দেশের এলপিজি সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন অবকাঠামো পর্যাপ্তভাবে গড়ে না ওঠায় পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বড় জাহাজ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সুবিধা পাচ্ছে প্রতিবেশীরা

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হকের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যবস্থায় ব্যয় বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো জাহাজের আকার ও আমদানির পরিমাণ।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে তুলনামূলক কম দামে এলপিজি আমদানি করতে পারে। তাদের জাহাজও বড়; একেকটি জাহাজে ৪২ হাজার টন পর্যন্ত এলপিজি আনা সম্ভব। এতে প্রতি ইউনিট পণ্যের পরিবহন ও আমদানি ব্যয় কমে আসে। বাংলাদেশে সৌদি আরামকোর নির্ধারিত সিপির ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এলপিজির দামের তুলনা করতে হলে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার পার্থক্যও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, ভারতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং বড় পরিমাণে আমদানির কারণে ব্যয় কম হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করায় পরিবহন ব্যয় বেশি পড়ে।

তিনি আরও বলেন, দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ বাজারে সরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ ক্ষেত্রে সফল হলে সরকারি অংশীদারত্ব ১০ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিইআরসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়লে সরবরাহের বিকল্প উৎস তৈরি হবে এবং বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমবে।

ভোক্তার স্বস্তির জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হলে শুধু মাসে মাসে মূল্য নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। আমদানি ও সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বড় জাহাজে পণ্য আনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তির সুযোগ তৈরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বিপণনের প্রতিটি স্তরে মুনাফা ও কমিশন কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিইআরসির নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর বাজার তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি রয়েছে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার সুফল ভোক্তারা পুরোপুরি পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।

রান্নার জ্বালানি হিসেবে দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি এখন অপরিহার্য। ফলে এ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শুধু গৃহস্থালি ব্যয় বাড়াচ্ছে না, সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়েও চাপ তৈরি করছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এলপিজির দাম কেন এত বেশি—তার কার্যকর কারণ চিহ্নিত করে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিভাগ এর আরো খবর

রিজার্ভ নামল ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর