শনিবার ৭ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ : অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির বড় পরীক্ষা

🗓 শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৭ নভেম্বর) :: আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর—জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার বিপ্লবে পাল্টে গিয়েছিল দেশের রাজনীতির গতিধারা। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, দেশকে নিয়ে যান স্থিতিশীলতার দিকে।

দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। এরপর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেনাবাহিনীতে একের পর এক পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান হয়। ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। একপর্যায়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়। ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হন।

বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান আবার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ফিরে আসেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং জনগণের সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব অর্পিত হয়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিপাহি ও জনতার সংহতির চেতনা পুনর্জাগরিত হয়েছিল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।’ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।’

এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

ক্ষমতায় বিএনপি, বড় পরীক্ষা ৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক পরিচয় ও ইতিহাসে ৭ নভেম্বর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান, সিপাহি-জনতার ঐক্য এবং পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে বিএনপির কাছে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকার পর এখন দলটি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর ৭ নভেম্বরকে সামনে রেখে সেই রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিএনপির নেতারা বারবার ৭ নভেম্বরের চেতনা হিসেবে গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক অধিকার, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন। তাদের বক্তব্য, সরকার এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, বিরোধী মতের স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এসব প্রশ্নের মধ্য দিয়েই ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গীকারের বাস্তবতা যাচাই হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, অধিকার ও সুশাসনের চর্চা প্রতিষ্ঠা হবে বিএনপির অঙ্গীকার পূরণে বড় পরীক্ষা।

সুসংহত গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যই প্রধান অঙ্গীকার

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মতে, ৭ নভেম্বরের চেতনা শুধু ধারণ করার বিষয় নয়, তা বাস্তবায়নেও বিশ্বাস করে বিএনপি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর এটি সুসংহত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন এবং পরাধীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে তা পুনরুদ্ধারের প্রয়াস দেখা যায়। বর্তমান সময়েও গণতন্ত্র, নতুন প্রজন্মের জন্য আধুনিক ও কর্মসংস্থান উপযোগী বাংলাদেশ এবং সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দিনটির গুরুত্ব রয়েছে।’

বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বিরোধী মতের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ভিন্নমত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা বর্তমানে রয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারছে, কর্মসূচি পালন করতে পারছে। মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তাও রয়েছে।’

তবে গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। ডা. জাহিদ হোসেনের মতে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেই চেতনা ধারণ করে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্র নিয়ে ষড়যন্ত্রের সুযোগ তৈরি হবে না। এতে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তিও রোধ করা সম্ভব হবে।

বিএনপো চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামও ৭ নভেম্বরের মূল আকাঙ্ক্ষা হিসেবে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, দিনটির চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই প্রতিফলন।

আবদুস সালাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, তা ক্রমে সংকুচিত হতে থাকে। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ, দুর্ভিক্ষে মানুষের মৃত্যু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকলের বিস্তার—সব মিলিয়ে দেশ সংকটে পড়েছিল। ১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হলে সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ওই পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে তার হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। সংবাদপত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো প্রকাশের সুযোগও তৈরি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সূচনা করেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া সেই রাজনৈতিক দর্শন এগিয়ে নেন। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত নীতিতে দেশ পরিচালনার কথা বলছেন।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

সার্বভৌমত্ব ও বিরোধী মতের স্বাধীনতার প্রশ্ন

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেলের কাছে ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা হচ্ছে বাংলাদেশকে পরাশক্তির প্রভাবমুক্ত রেখে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড় করানো। তার মতে, দেশকে স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সরকার সেই চেতনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে বাংলাদেশকে একটি পরাশক্তির কাছে নতজানু করে ফেলা হয়েছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে দেশের নিজস্ব শক্তি ও মেরুদণ্ডের ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি অতীতেও এই চেতনা ধারণ করেছে, এখনো করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।’

বিরোধী দলের প্রতি সরকারের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। কর্মসূচি ঘোষণার পর নেতা-কর্মীদের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটত। বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। বিরোধী দলের নেতাদের ওপর নির্যাতন বা বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা নেই।’

তবে সরকারের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। হাবিবুন্নবী খান সোহেল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহারের চেষ্টা করা বিভিন্ন পরাশক্তি এবং তাদের সহযোগী রাজনৈতিক শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই সরকারকে এগোতে হচ্ছে।’ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন। তার মতে, একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়ের ধারণা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ।

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘সিপাহি ও জনতার সংহতির মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়। পরে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা চালু করেন এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে বাংলাদেশি পরিচয় সামনে আনেন। বেগম খালেদা জিয়াও তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেছেন। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সেই চেতনায় জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।’

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত পরীক্ষা

৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কথা বলছেন। আজিজুল বারী হেলাল জানান, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, খাল খনন, পলিটেকনিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ৬০ কোটি টাকার স্টার্টআপ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। জুলাই সনদ ও বিএনপির ৩১ দফার বিভিন্ন বিষয়ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সবকিছু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। সামাজিক সুরক্ষা ও প্রণোদনামূলক কর্মসূচির বড় একটি অংশের কাজ শুরু হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে সময় লাগবে বলে তার প্রত্যাশা। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মতে, ৭ নভেম্বরের সঠিক ইতিহাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছে। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ তার দাবি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল।

বিএনপিকে উদারপন্থী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে রাকিব বলেন, ‘ইতিহাস জোর করে প্রচারের পরিবর্তে প্রকৃত ইতিহাসের চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরও মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জিয়াউর রহমান, সিপাহি-জনতা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আরও কাজ করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সুশাসন অব্যাহত রাখতে পারলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মাহবুবুর রহমান মনে করেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিএনপি সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্তৃত্ববাদী শাসনে সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এখন দায়িত্ব বিএনপি সরকারের ওপর।

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী শক্তি এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু দল ও ব্যক্তি সরকারকে স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সংহতি ও ৭ নভেম্বরের চেতনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। সংবিধানকে গণমুখী করা, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।’

তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে সরকার বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে।

আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’

শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’

দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি – জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’

শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে। ছবি: পিএমও
শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।’ স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।’

শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে। ছবি: পিএমও
শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে। ছবি: পিএমও

তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। যে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা।

অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

দেশের জনগণের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক-‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নভেম্বর জাতীয় বিপ্লবও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেটকোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উপদেষ্টারা, জাতীয় সংসদের সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগ এর আরো খবর

রিজার্ভ নামল ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর