এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কক্সবাজারের চকরিয়া শাখার উদ্যোগে মসজিদে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে “ইছালে ছাওয়াব মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন রাহবারে বায়তুশ শরফ আন্তর্জাতিক স্কলার লেখক ও গবেষক আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ) পীর সাহেব বায়তুশ শরফ।
মাহফিলে তিনি বলেন-কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ও মানব সেবার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে পরিচালিত করতে হবে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন হলো এক সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা যা জীবনের উদ্দেশ্য, নৈতিকতা, এবং পরকালের প্রতি মনোযোগ দিতে শেখায়।
এই জীবনব্যবস্থা অনুযায়ী, জীবনের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর ইবাদত, মানবসেবা করা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলা ও অনুসরণ করা। যা কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনার মাধ্যমে সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে ভালো কাজের মাধ্যমে গুনাহ থেকে দূরে থাকা, ধৈর্য ধারণ করা এবং পরকালে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
বায়তুশ শরফ সিলসিলার পীর মুর্শিদগণও নবী রসুলদের সেই পথ অনুসরন করে মুসলমানদের ঈমান অকিদা রক্ষা করে ইহকালনি শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অরো বলেন, আল্লাহর মেহেরবাণীতে বায়তুশ শরফ আজ বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তার মানে ঈমানী রুহানী তালকিনের জন্য।
যুগে যুগে নবী আউলিয়া কেরামের উত্তরসূরী, পীর মুর্শিদগণ, হক্কানী ওলামায়ে কেরাম মুসলমানদেরকে বিভিন্ন বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে আসছেন। তাই নবী রাসুলের পথ অনুকরণে কুরআন হাদিসের অনুসরণে হক্কানী আলেম ওলামা ও পীর মুর্শিদরা মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন।
মাহফিলের সুন্দর প্রস্তুতির জন্য তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। পীর সাহেব হুজুর কেবলা বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে, চকরিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য যাদের ত্যাগ ও অবদান রেখে পরকালে চলে গেছেন রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে চক্ষু হাসপাতাল উদ্বোধন ও ইছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বায়তুশ শরফ পীর সাহেব কেবলা আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী।
আনজুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাফেজ আমান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে চকরিয়া জামে মসজিদের খতিব তরুণ আলোচক হাফেজ মাওলানা মাহের শামসের সঞ্চালনায় ইছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন- কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আলোচক ড. ওয়ালিউল্লাহ মুঈন, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মোল্লাপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লোকমান হাকিম জাহেদী, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ আনন্দপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জিয়াউল হক আনসারীসহ বিভিন্ন আলেম-ওলামারা বয়ান পেশ করেন।
বক্তারা ইছালে ছাওয়াবের মাহাত্ম্য তুলে ধরে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক নবী রাসুলের দেখানো পথে জীবন গঠনের আহ্বান জানান।
মাহফিলের আগে রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ) চকরিয়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে নতুন করে সংযোজন করেছে একটি চক্ষু হাসপাতাল। যেটি আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি বৃহস্পতিবার রাতে উদ্বোধন করেন। এছাড়াও হুজুর কেবলা নতুন করে আগামী ২০২৬ সালের শুরুতে কোমলমতি শিশুদের ধর্মীয় ও দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক মানসম্মত নুরানি বিভাগ থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে ঘোষনা করেছেন।
মাহফিলে আনজুমনে ইত্তেহাদ চকরিয়া শাখা কর্তৃক পীর সাহেব হুজুরকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা করা হয়। এছাড়াও আনজুমনে নওজোয়ান চকরিয়া শাখার সার্বিক সহায়তায় হেফজখানা ও এতিমখানা, ফোরকানিয়া শিক্ষার্থীর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং মসজিদের খাদেমদের সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে পীর সাহেব হুজুরের নসীহত, তাওবা-ইস্তেগফার, বাইয়াত ও আখেরি মোনাজাত করেন এবং মাহফিলে আগত মুসল্লীদের তবারুক বিতরণ করেন।














