এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে মাদরাসার পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির পায়খানা ছিটানোর কারণে পুকুরের পানি মারাত্মক ভাবে দুষিত হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থার কারণে মাদরাসা লাগোয়া মসজিদের মুসল্লীরা নামাজ পড়ার জন্য অজু করতে গিয়ে নরক যন্ত্রণার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীও পুকুরের পানি ব্যবহার করতে পারছে না।
এ ঘটনায় মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লী এবং বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা পুকুরটি ইজারা দেওয়া এবং পুকুরে মুরগির পায়খানা ছিটানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে এলাকাবাসী ইউএনও দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগে জানান, উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালীস্থ মজিদিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার (দিগরপানখালী মহিলা মাদরাসা) বড় পুকুরটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়েছেন মোঃ আলমগীর নামের এক ব্যক্তি।
মাদরাসা কমিটির সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে পুকুরটি মাছ চাষের জন্য ইজারা দিয়ে লাভবান হলেও ইজারাদার আলমগীর কতৃক পরিবেশ বিধংসী কর্মকাণ্ডের কারণে জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মাছ চাষের জন্য ইজারাদার আলমগীর পুকুরে মাছের খাদ্য না দিয়ে অভিনব কৌশলে খাদ্য হিসেবে মুরগির পায়খানা ও পঁচা মাংসের অংশ বিশেষ ছিটাচ্ছে।
বেশকিছু দিন পুকুরে মুরগির পায়খানা ছিটানো হচ্ছে। এ অবস্থায় পুকুরের পানি মারাত্মক ভাবে দুষিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় মসজিদের মুসল্লীরা জানিয়েছে, আমরা দীর্ঘ বছর ধরে মসজিদ লাগোয়া মাদরাসা পুকুরের পানি দিয়ে অজু করে নামাজ আদায় করতাম।
এখন মুরগির পায়খানা ছিটানোর কারণে পুকুরের পানি দুষিত হয়ে পড়ায় ওই পানিতে অজু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন মুসল্লীরা।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ২, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জনসাধারণ দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসা পুকুরটি গোসল কাপড়চোপড় ধোয়া থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করছেন।
কিন্তু সম্প্রতি সময়ে ইজারাদার আলমগীর কতৃক পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির পায়খানা ছিটানোর কারণে পুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসী প্রাত্যহিক কাজে পুকুরের পানিতে অজু গোসল কিছুই করতে পারছে না।
এলাকাবাসী ও মসজিদের মুসল্লীরা পরিবেশ বিধংসী ক্ষতিকর উপায়ে মাছ চাষ বন্ধ করার মাধ্যমে পরিবেশ দুষণের কবল থেকে উদ্ধার করে পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানানো হলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে, তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














