কক্সবাংলা ডটকম(২৩ নভেম্বর) :: ভোগ্যপণ্যের বাজারে বেসামাল অবস্থা শুরু হয়েছে। বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ ও স্বল্প আয়ের মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের চাহিদায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম মেটাতে শুরু হয়েছে ভোক্তার হাঁসফাঁস অবস্থা।
আয়ের সিংহভাগ চলে যায় তিন বেলার আহার জোটাতে। খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের চড়া মূল্যের বিরূপ প্রভাব পড়েছে অতিদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। অনেক দিন ধরে নিত্যপণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তারা আয়ের সঙ্গে ব্যয় সংকুলান করতে পারছে না। খরচ কমিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারছে না।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন- চাল, ডাল, তেল, লবণ, সবজি, মাংস, মাছ কিংবা শিশুখাদ্যের দাম প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে। খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাজারে চালের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এ ছাড়া আটার দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ, মসুর ডালের দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মুরগির দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে বাজারে। ফলে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের উপার্জনের সিংহভাগই চলে যায় খাদ্যপণ্য কিনতে। অথচ যে হারে ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় আয় বাড়েনি একটুও।
বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন অস্থিতিশীল বাজারব্যবস্থা শুধু পেটের ভাত কেড়ে নিচ্ছে না, মানুষের মানসিক শান্তি, পারিবারিক সম্পর্ক এমনকি সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাজারের সিন্ডিকেট, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত মিলিয়ে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের বাজার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অসঙ্গতি রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ নজরদারির অভাব, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, মজুদদারির প্রবণতা, পরিবহন ব্যয় ও চাঁদাবাজি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার অজুহাত- এসব মিলিয়ে দেশের ভেতরে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কৃষক অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। অথচ শহরে সেই একই পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়। এই অসামঞ্জস্যের বোঝা বহন করে ভোক্তারা।
অন্যদিকে খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে। দেশে দারিদ্র্যের হার গত তিন বছরে বেশ খানিকটা বেড়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে অতি দারিদ্র্যের হার তিন বছর আগের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে আরও বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের কাছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশেরও নিচে। এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর আয়ের প্রায় সবটুকুই এখন চলে যাচ্ছে তিন বেলার খাবার জোগাড় করতে।
কিন্তু শিক্ষা, চিকিৎসা ও ঘর ভাড়াসহ অন্যান্য খরচও তো থেমে থাকবে না। সেসব খরচও কোনো না কোনোভাবে মেটাতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ পরিবার ধার-দেনা করছে বা কেউ ঋণ নিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটাচ্ছে। এভাবে গরিব আরও অতি গরিব হচ্ছে, মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত হয়ে যাচ্ছে এবং নিম্নমধ্যবিত্ত গরিব হয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণেই দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে।
বাজারের বর্তমান পণ্যমূল্য পরিস্থিতি :
বাজারে গেলে দেখা যায় এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম দীর্ঘদিন ধরেই অনেক বেশি। বাজারে মোটা ও মাঝারি চালের কেজি সর্বনিম্ন ৬০ টাকা, আর চিকন চালের কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা। আটার কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ময়দার কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ থেকে ১৮০, পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ এবং দেশি মুরগির কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। গরিবের মাছ বলে খ্যাত তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছও এখন ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ২২০, রসুন ২১০ থেকে ২২০ ও পেঁয়াজ ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশে এখন সবজির ভরা মৌসুম চলছে কিন্তু দাম আকাশছোঁয়া। বাজারে এখন প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে ৯০ থেকে ১০০, শসা ৬০ থেকে ৭০, করলা ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০, পটোল ৮০, গাজর ১৪০ থেকে ১৬০ ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০, বরবটি ১০০, লতি ৮০, ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ ও কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৭০ ও চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আর বাজারে লালশাক ১৫, পাটশাক ১৫, পুঁইশাক ২৫, কলমিশাক ১৫ ও পালংশাক ১৫ টাকা আঁটিতে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে তাদের শুরু হয়েছে নাভিশ্বাস অবস্থা।
বেশি কষ্ট সাধারণ মানুষের :
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। ধনী শ্রেণি তাদের জীবনযাত্রায় বড় কোনো প্রভাব টের পায় না। আর গরিব শ্রেণি নানা রকম সহায়তা, ভর্তুকি বা সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি লজ্জা পায় সাহায্য চাইতে। তারা সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য চুপচাপ নিজের কষ্ট সহ্য করে যায়। বাস্তবে তাদের অবস্থাই সবচেয়ে করুণ।
একসময় যারা পরিবারের জন্য উন্নতমানের খাবার, ভালো শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করত, এখন তারাই বাধ্য হচ্ছে খরচ কমাতে। বাচ্চার জন্য দুধ না কিনে কম দামে ভেজাল মিশ্রিত খাবার কিনতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের ফি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে অনেকেই পথের ফার্মেসি থেকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।
যা বলছেন স্বল্প আয়ের মানুষেরা :
রাজধানীর পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন একটি অফিসে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। মাসে বেতন পান ১৬ হাজার টাকা। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ওই এলাকার একটি টিনশেড বাসায়। নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে তিনি আর সংসার চালাতে পারছিলেন না। গত চার মাসে ৮ হাজার টাকা বাকি পড়েছে মুদি দোকানে। দোকানদারও এখন আর বাকি দেয় না।
ফলে বাধ্য হয়ে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ছেলেটা ক্লাস নাইনে পড়ত। এখন আর সে স্কুলে যায় না। এলাকার একটি মাছের খামারে কাজ করছে। তিনি বলেন, ১৬ হাজার টাকা বেতন পাইয়া ঘর ভাড়াই দেওন লাগে ৮ হাজার টেহা। বাকি ৮ হাজারে পাঁচজনের পরিবারের কি কইরা চলে? প্রতি মাসেই দুই-তিন হাজার টেহা দোকান বাকি পড়ে। তারপরও পোলা-মাইয়ার দিকে চাইয়া কষ্ট কইরা অতদিন আসছিলাম। কিন্তু অহন আর পারতেছি না। তাই পরিবারকে বাড়িত পাঠাইয়া দিছি।
একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন রহিমা বেগম। থাকেন মধ্য পাইকপাড়ায়। তিনি বলেন, গার্মেন্টসে কাজ করে ওভারটাইমসহ মাসে বেতন পাই ১৫ হাজার টাকা। এক রুমের ঘর ভাড়াতেই চলে যায় ৭ হাজার টাকা। বাকি ৮ হাজার টাকা দিয়ে পুরো মাসের খাবার কিনব, না দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দেব, না সংসারের অন্য চাহিদা মেটাব। ওই ৮ হাজার টাকায় মাসের অর্ধেক সময়ের খাবারও জোগাড় করা যায় না। বাধ্য হয়ে এক বেলা কম খেয়ে বা শাক-পাতা খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছি। মাছ-মাংস সপ্তাহের এক দিনও সন্তানদের পাতে তুলে দিতে পারি না। আমার মতো গরিবরা এখন এভাবেই বেঁচে আছে।
কী বলছেন বাজার বিশ্লেষক :
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বাজার বিশ্লেষক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষের এখন কষ্টের কোনো শেষ নেই। আমরা আশা করেছিলাম এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হয়তো ভোগ্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। বাস্তবতা হলো সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব না হয়ে আরও বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা এখন বলেন, আগে এক দলকে চাঁদা দিতে হতো, এখন দিতে হয় অনেক জায়গায়। এই সরকারের আমলেও ভোগ্যপণ্যের বাজারে চাঁদাবাজি থেকে দেশের মানুষের রেহাই মিলল না। বাজারে শুধু আলু ছাড়া কোনো পণ্যের দাম ক্রেতার নাগালে নেই। ভোগ্যপণ্যের দাম কমাতে বর্তমান সরকারের কোনো উদ্যোগই আমাদের চোখে পড়ে না। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা তথ্যে উল্লেখ করা হচ্ছে যে- দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষের খাদ্য ঘাটতি বেড়েছে। আগেও যেমন ওএমএসের ট্রাকের পেছনে বড় লাইন দেখা যেত, এখন সে লাইন আরও দীর্ঘ হয়েছে।
এতে বোঝা যায় প্রকৃত অর্থেই দেশে গরিবের সংখ্যা বেড়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- দেশের মানুষের যে হারে ব্যয় বাড়ছে সে হারে তো আয় বাড়েনি, উল্টো অনেক ক্ষেত্রে আয় আরও কমে গেছে। দেখা গেছে অনেকে চাকরি হারিয়েছে, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। গার্মেন্টস মালিকরাই জানিয়েছেন গত এক বছরে ৩ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে। তা হলে তাদের তো আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেকের বেতন কমে গেছে।
কীভাবে চলছে সাধারণ মানুষ :
আয় কমে যাওয়া এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের সংসার তা হলে কীভাবে চলছে। এ বিষয়ে এস এম নাজের হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, এ ক্ষেত্রে অনেকেই খরচ কমিয়ে সমন্বয় করছেন। যেমন মাংস খাওয়া ছেড়ে কেউ মাছ খাচ্ছেন। যাদের মাছ খাওয়ার সামর্থ্য নেই তারা মাছ কেনা বাদ দিয়ে ডিম বা সবজি খাচ্ছেন। কেউ আবার ভাত খাওয়া বাদ দিয়ে তিন বেলাই রুটি খাচ্ছেন।
আবার অনেক ফ্যামিলি খরচ কমাতে বিল্ডিংয়ের ভাড়া বাসা ছেড়ে টিনশেডের বাসা ভাড়া নিচ্ছে। কেউ আবার শহরে টিকতে না পেরে পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আয় বাড়ানোর যেহেতু বিকল্প কোনো উপায় নেই, তাই এভাবে খরচ কমিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা চলছে। তবে এভাবে খরচ কমাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ফলে এসব পরিবারের সদস্যরা পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক পরিবারকে সংসার চালাতে গিয়ে ধার-দেনায় জড়িয়ে যাচ্ছে। আত্মীয়স্বজনের কাছে থেকে বারবার ধার না পেয়ে কেউ এনজিও থেকে ধার নিচ্ছে। এ ছাড়া এখন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানিগুলোও ঋণ দিচ্ছে- অনেকে সেখান থেকেও ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছে। এভাবে ধার-দেনা নির্ভর হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন।
করণীয় কী :
এ বিষয়ে ক্যাব সহ-সভাপতি নাজের হোসেন বলেন, সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে হলে সরকারকেই মূখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। যেমন টিসিবির মাধ্যমে বেশি করে কম দামের পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে কম দামে ওএমএসের চাল-আটা দেওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া অতি প্রয়োজনীয় কিছু নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক মওকুফ করতে হবে। যেমন কয়েক দিন আগে সরকার রোজার মাস উপলক্ষে ১০টিরও বেশি পণ্যের শুল্ক মওকুফ করেছিল।
এই ব্যবস্থা শুধু রোজার মাসের জন্য না করে সারা বছরের জন্য রাখলে তবেই এর সুফল পাবেন ক্রেতারা। তা না হলে শুল্ক কমানোর সুফল পাবেন শুধু ব্যবসায়ীরাই। সারা বছর এই ব্যবস্থা রাখলে হয়তো পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে।













