বিশেষ প্রতিবেদক :: বিতর্কিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন বাতিল এবং পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কথিত ‘পরিবেশবাদী চক্রের’ বাধাদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কক্সবাজার পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি।
একই সঙ্গে ইসিএ আইন সংশোধন বা বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশের অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসিএ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও তারা দাবি করেন, ইসিএ ব্যবস্থাপনার নামে উন্নয়ন ও পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিবেশ রক্ষার নামে দেশের কিছু সংগঠন বিদেশি সহায়তা নিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে।
তাদের দাবি, বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত, সৈকতসংলগ্ন এলাকা ও পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে ইসিএর আওতায় রেখে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্রসৈকতকে ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর আওতায় ঘোষিত ইসিএ এলাকায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করতে পারে—এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব বিধিনিষেধের কারণে কক্সবাজারে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার মুখে পড়ছে।
তাদের অভিযোগ, বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বিনিয়োগকারীরা কক্সবাজারে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখালেও ইসিএ-সংক্রান্ত অনুমোদন ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তারা আরও বলেন, গত প্রায় তিন দশক ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ইসিএর আওতাভুক্ত থাকার কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পর্যটন শিল্পের প্রসারের জন্য পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ইসিএ আইনের প্রয়োগে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হলো, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, বালিয়াড়ি, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইসিএ বিধিনিষেধ গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়েও সৈকতের ইসিএ এলাকায় নির্মাণকাজ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশগত ও উপকূলীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। গত ২৩ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তর নির্মাণাধীন একটি সড়কের ক্ষেত্রে বালিয়াড়ির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী কার্যক্রম বন্ধ রেখে পরিবেশগত ও উপকূলীয় ঝুঁকি মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে।
এ ছাড়া ইসিএ ঘোষণার উদ্দেশ্যই হলো পরিবেশের অবক্ষয়ের কারণে সংকটাপন্ন বা সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় থাকা এলাকার প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষা করা। আইন অনুযায়ী সরকার গেজেটের মাধ্যমে কোনো এলাকাকে ইসিএ ঘোষণা করতে পারে এবং ওই এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তারা পরিবেশ ধ্বংসের পক্ষে নন; বরং পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশ চান।
তাদের দাবি, ইসিএ আইন এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ থাকে।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
এতে ইসিএ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা, পর্যটন উন্নয়নে বাধা দূর করা এবং কক্সবাজারের জন্য পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।














