বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে অস্থিরতা

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

👁️ ৯৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

👁️ ৯৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বাজারে। চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনে ঘটছে বিঘ্ন। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও মসলার দামে শুরু হয়েছে ওঠানামা। কিছু পণ্যের সরবরাহও কমে গেছে। এতে পাইকারি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধপরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম আরো বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকরাও বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন এর সুযোগ নিতে না পারে তার জন্য বাজার মনিটরিং বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত শনিবার রাত থেকে হঠাৎ দামের অস্থিরতা দেখা দেয়। পাম অয়েল, সয়াবিন তেল, চিনি, গম ও বিভিন্ন শুকনো খাদ্যপণ্যের দাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে যায়। যদিও পণ্যের মূল দাম খুব বেশি না বাড়লেও ট্রেডিং মার্কেটে সরবরাহ আদেশ (ডিও/এসও) প্রতি মণে ১০০ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পায়।

একপর্যায়ে বাজারে কিছু পণ্যের বিক্রেতাশূন্য পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবে রোববার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হওয়ায় যুদ্ধ আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়লে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হয়। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, গমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওঠানামা করে। পাইকারি বাজারে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে বাড়তি দামেই ভোগ্যপণ্য লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে দাম অস্বাভাবিক না বাড়লেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিক্রি না করে মজুদ রাখার দিকেই আগ্রহ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে—এমন ধারণা থেকেই তাদের মধ্যে এ প্রবণতা, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার মাঝামাঝিতে পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শুকনো খাদ্য, মিষ্টিজাতীয় পণ্যের চাহিদাই কেবল এখন বেশি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কায় খাতুনগঞ্জের বাজারেও অস্থিরতা। কেউ কেউ পণ্যের অগ্রিম বিক্রিতে দাম বেশি হাঁকছেন। আবার কেউ কেউ মজুদ পণ্য বিক্রিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। মূলত যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রধান প্রধান ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এমনটা করছেন।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের এমএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিন্টু বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি বিগত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই সংকটাপন্ন। এখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্ট যুদ্ধ বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য কঠিন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে স্বভাবতই সব পণ্যের দামেই প্রভাব পড়ে। দেশের অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যেরও ট্রেড পয়েন্ট দুবাইকেন্দ্রিক। তাই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে দেশীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করছে যুদ্ধের সময়সীমা কতদিন হবে তার ওপর।’

বাজার সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে গত শনিবার বিকাল পর্যন্ত পরিশোধিত খোলা পাম অয়েলের মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) দাম ছিল ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ইরানে আক্রমণের ফলে সন্ধ্যার পর দাম মণপ্রতি ১০০ টাকা বেড়ে ৬ হাজার টাকায় উঠে যায়। পরদিন দাম ৫০ টাকা কমলেও ধারাবাহিকভাবে আবারো বেড়ে ৫ হাজার ৯৭০ থেকে ৫ হাজার ৯৭৫ টাকার মধ্যে স্থির রয়েছে।

এছাড়া পরিশোধিত খোলা সয়াবিন তেলের দাম মণপ্রতি ১২০ টাকা বেড়ে ৭ হাজার ১৮০ টাকায় (খাতুনগঞ্জে) এবং ঢাকার মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ১২০ টাকায় লেনদেন হয়েছে গতকাল। চিনির মণপ্রতি দাম ৫০-৬০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৪৭৫ থেকে ৩ হাজার ৪৮০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া গম, ডাল-জাতীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। যদিও রমজান শুরুর পর এসব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছিল পাইকারি বাজারে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। এর সঙ্গে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারজাতের প্রভাব রয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী ভোগ্যপণ্যের দামও বাড়বে। আবার পরিবহন খরচ, জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের ইন্স্যুরেন্স খরচ বেড়ে বাংলাদেশের মতো শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোয় ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে সারা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য ভয়ংকর পরিস্থিতি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম।  তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ হ্রাস পেয়ে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে।

আবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের আক্রমণের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেন্দ্রিক বৈশ্বিক ট্রেডেও একটি বড় প্রভাব পড়বে। জ্বালানিসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য এ যুদ্ধ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের।’ তবে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হচ্ছে এর ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক সংকটের পরিধি নির্ণয় করা যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

এই বিভাগ এর আরো খবর

রামুতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর

রামুতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬