শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী দিবসে কিশোরীদের কণ্ঠে স্বপ্নের জয়গান

🗓 সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

👁️ ৪৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

👁️ ৪৪ বার দেখা হয়েছে

জাবেদ আবেদীন শাহীন :: আমরা করবো জয়, আমরা করবো জয়,আমরা করবো জয় একদিন।ওহো, বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়, আমরা করবো জয় একদিন।

গানটি যখন একসঙ্গে পঞ্চাশটি কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল,তখন কক্সবাজারের ঐতিহাসিক বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ইনডোর স্টেডিয়ামের দেয়ালে দেয়ালে যেন প্রতিধ্বনি উঠল এক অন্যরকম আবেগের।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সকালটা যেন হঠাৎ বদলে গেল কোলাহলের মাঝেও একটা শান্ত, দৃঢ় বার্তা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।সেই মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থলের পরিবেশ বদলে গেল সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত অতিথিদের অনেকের চোখ ভিজে উঠল অজান্তেই।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট-এর আয়োজনে ৮ মার্চ রবিাবার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলার ৬টি ইউনিয়ন থেকে আসা অর্ধশতাধিক কিশোরী একত্রিত হয়েছিল এক ছাদের নিচে।তাদের চোখে উত্তেজনা,মুখে হাসি আর বুকে লালন করা সেই অদম্য স্বপ্ন,যা প্রতিনিয়ত চাপা পড়ে যায় সংসার,সমাজ আর বৈষম্যের ভারে।

সকালে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কিশোরীরা।লুডু খেলা প্রতিযোগীতা অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা উদযাপন করে খেলায় মেতে ওঠে হাসি,উল্লাস আর বন্ধুত্বের রঙে ভরে ওঠে স্টেডিয়ামের চারপাশ।

পরে আয়োজনের একটি বড় অংশ ছিল মুক্ত আলোচনা।সেখানে অধিকার আর সুরক্ষার কথা যেমন উঠেছে,কিশোরীরাও শুনিয়েছে তাদের না বলা নিজেদের কথা।নারী দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভায় নিজেদের অনুভুতি শেয়ার করেন নিশফা,সামু,জুয়েল।অতিথিদের কণ্ঠে উৎসাহের বার্তা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত বিশ্বাস,উপপরিচালক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর,কক্সবাজার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বরেণ্য সাংবাদিক জাবেদ আবেদীন শাহীন।ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষে অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের মোবিলাইজেশন এন্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং অফিসার পার্থ প্রতীম বাগচী। পুরো অনুষ্ঠান সাবলীল ভাবে সঞ্চালনা করেন মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং অফিসার লুইজা মন্ডল।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সুব্রত বিশ্বাস বলেন,২০২৬ সালের নারী দিবসের মূল লক্ষ্য কেবল কথা বলা নয়,বরং নারীদের সমান অধিকার এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে শুধু কথার ফুলঝুরি নয় সময় এসেছে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার।নারীর অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।তিনি আরো বলেন, তোমাদের এই প্রাণচাঞ্চল্যই বলে দেয়,সঠিক সুযোগ পেলে তোমরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।

বিশেষ অতিথি সাংবাদিক জাবেদ আবেদীন শাহীন নারীর মর্যাদা ও সামাজিক সাফল্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমে এই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এই দিনটি পালন করে আসলেও, মাঠ পর্যায়ে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনো অনেক কাজ বাকি।আজকের এই আয়োজন কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বৈষম্যমূলক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়ক হবে।আসুন, বৈষম্যহীন এক দেশ গড়তে আজই অঙ্গীকার করি।

মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং অফিসার পার্থ প্রতীম বাগচী বলেন, নারী দিবসের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো কিশোরীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।

মাঠ পর্যায়ে এই শিশু-কিশোরীরাই আগামীর পরিবর্তনের কারিগর।একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে শিশু ও কিশোরীদের জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।আজকের এই আয়োজন সেই লক্ষ্যেরই একটি প্রতিফলন।

শেষ বিকেলে উপস্থিত কিশোরীদের ফেরার সময় ছিল এক নতুন সংকল্প।বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ইনডোর স্টেডিয়াম আজ কেবল একটি ভেন্যু ছিল না,এটি ছিল এক বিশাল অঙ্গীকারের সাক্ষী।সেই বদলে যাওয়ার গল্পটাই আজকের নারী দিবসের শ্রেষ্ঠ উপহার।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর