নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলারসহ ৪৯৫ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার লেমশীখালি এলাকার অদূরে ভোলা খালের তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সিমেন্টের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ সংরক্ষণ, নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রে সুশাসন বজায় রাখতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, লেমশীখালি এলাকায় একটি চক্র মায়ানমারে অবৈধভাবে সিমেন্ট পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে কুতুবদিয়ায় মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করে।
পরে বুধবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে লেমশীখালি এলাকা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে ভোলা খালের নিকটবর্তী তীরে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার নোঙর করা অবস্থায় শনাক্ত করে নৌবাহিনীর টহল দল।
টহল দল ট্রলারটির কাছে গিয়ে কোনো মাঝিমাল্লা দেখতে না পেয়ে সন্দেহবশত তল্লাশি চালায়। এ সময় ট্রলারটির ভেতর থেকে ৪৯৫ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
পরে জব্দকৃত ট্রলার ও সিমেন্ট কুতুবদিয়া থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রির আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারে বিভিন্ন পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কুতুবদিয়া উপকূল ব্যবহার করে একাধিক চক্র বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তবে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, উপকূলে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হলে পাচারকারী চক্রকে পুরোপুরি আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।














