বুধবার ২০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা

🗓 মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

👁️ ৪৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

👁️ ৪৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ মে) :: দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কোথাও ঝটিকা মিছিল, কোথাও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান—এমন নানা তৎপরতার মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পরে এসব কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে অনেক ক্ষেত্রেই এসব কর্মসূচি স্থায়ী হতে পারছে না।

বিভিন্ন এলাকায় হামলা, পাল্টা হামলা, মারামারি ও হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এজন্য যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর দলটির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। একই সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের অনেকে বিদেশে অবস্থান করছেন।

তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকেও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন বলে জানা গেছে।

ছদ্মবেশে বা ভিন্ন পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টাও করছেন তারা।

এতদিন মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি রাজপথেও তাদের তৎপরতা বাড়ছে।

অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ দিবস উপলক্ষে গত রোববার দেশজুড়ে অন্তত ৩৯টি মিছিল হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১৫টি, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বাকি মিছিলগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দলটির নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সহিংস ঘটনারও জন্ম হয়েছে।

গত ১৬ মে রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার টাইপালং এলাকায় ফেসবুক পোস্ট ও ‘হা-হা’ রিয়্যাক্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সৈয়দা খাতুন (৫০) নামে এক নারী নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাদ্রাসার দেয়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা চলছিল। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় ওই নারী আহত হন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ১৪ মে রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ও বিশ্বরোড এলাকায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল প্রতিহত করতে গিয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও ছাত্রশিবিরের অন্তত চার নেতাকর্মী আহত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিছিল ঠেকাতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজধানীতেও সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে।

১৭ মে সকালে ঢাকার আসাদগেট এলাকায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মিছিলের চেষ্টা করেন কয়েকজন নেতাকর্মী। পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ব্যানার-ফেস্টুন ফেলে পালিয়ে যান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি জুয়েল রানা জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে রাজধানীর শাহবাগে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা স্মৃতিস্তম্ভে জুতার মালা রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তা সরিয়ে ফেলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন।

বন্ধ কার্যালয় খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে।

নগরজুড়ে অতিরিক্ত টহল, ভোরবেলার বিশেষ নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম বা দিবস পালনের সুযোগ নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তৎপরতা নজরে আসছে। যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।”

এই বিভাগ এর আরো খবর

বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাড়ছে সরকারের ঋণনির্ভরতা

বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর