কক্সবাংলা ডটকম(২১ মে) :: রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশুটির বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি সেখানে যান।
এ সময় তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শিশুটির বাবা ও মায়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদান করেন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটে সোহেল রানা গলা কেটে তাকে হত্যা করে। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করার আগে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। হৃদয় বিদারক এই ঘটনার থেকেই শিশুটিকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে অনেকেই সরব হয়ে উঠেন।
রাতেই শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পরদিন বুধবার সকালে শিশুটির বাড়িতে ছুটে যান এলাকাবাসী। মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তার শিক্ষকরাও এসেছেন। জড়ো হন গণমাধ্যমের একদল কর্মীও।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বুধবার আসামি সোহেলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোহেল পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান নিপুণ।
তদন্ত সূত্র ও স্থানীয় লোকজন জানায়, সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়া থানার নিমকদমা চৌদ্দগ্রামে। বছর তিনেক আগে সস্ত্রীক ঢাকায় এসে পল্লবীতে বসবাস শুরু করে। রিকশা-ভ্যান মেকানিকের কাজ করে।
এদিকে গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় পল্লবীর সেই ভাড়া বাসায়। এরপর সন্ধ্যায় নেওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে গ্রামের বাড়ি। রাতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে মশাল মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানারপুল এলাকার ‘অঙ্কুরিত যুদ্ধ-৭১’ ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে মশাল মিছিল বের করা হয়।
পল্লবীতে মেয়েটির গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে নৃশংস এই হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আইনশৃঙ্খলার অবনতির ‘দায়ে’ এই কর্মসূচি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে শিশুটির ধর্ষক ও খুনিদের দ্রুততম সময়ে বিচার দাবি করেছেন।
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। খুন, ধর্ষণসহ নৃশংস অপরাধে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বিচারের দাবি জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শিশু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রাতে শিশুটির বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলতে তাদের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।













