রবিবার ৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি, তবে সংকট কাটেনি : সিপিডি

🗓 শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

👁️ ২৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

👁️ ২৫ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতির কিছু সূচকে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও সেই অবস্থাকে স্থায়ী বা টেকসই করার মতো প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিদ্যমান স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে দেশের আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাত নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, সরকারি অর্থায়ন ও ব্যাংকিং খাতের সংকট নতুন নয়; বরং কয়েক বছর ধরেই এসব সমস্যা অর্থনীতিকে দুর্বল করে রেখেছে। এসব চ্যালেঞ্জ থেকে এখনো পুরোপুরি উত্তরণ সম্ভব হয়নি।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব আহরণে সরকার লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই আগামী দিনে রাজস্ব খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। জনগণকে স্বস্তি দিতে হলে যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

ব্যাংকিং খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এখনো ব্যাংক খাতে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারকে দ্রুত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যমান সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও গভীর করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে আপাত স্বস্তির চিত্র দেখা গেলেও এর আড়ালে বহু অমীমাংসিত দুর্বলতা রয়ে গেছে। এসব দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর নীতি গ্রহণ ও কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই।

ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা তথ্যানুযায়ী, দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উদ্বেগের জায়গা হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবাখাতের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছে সিপিডি।

সংস্থাটি জানায়, জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে সিপিডি জানায়, এর প্রভাব দ্রুত পরিবহন খাতে ছড়িয়ে পড়েছে। বাসভাড়া ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি।

সিপিডির মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নতুন মূল্যবৃদ্ধি পণ্যের দাম আরও বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল যৌক্তিক হলেও তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিপিডির অন্যান্য গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মত দেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বর্তমান স্বস্তি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর