বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে মাদক মামলার আসামি, কিশোর অপরাধী ও মহানগর এলাকার বন্দিদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের সুপারিশও করা হয়েছে।
বন্দিদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে কারা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টিতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে নীতিগত সম্মতিও পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মাদক পাচার, চোরাচালান, হত্যা, অপহরণ, মানবপাচার ও অস্ত্র কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এসব অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে নিয়মিত কারাগারে যাচ্ছেন অনেক রোহিঙ্গা।
১০৯ বছর পুরোনো কক্সবাজার জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪০০ জন হলেও সেখানে গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার বন্দি থাকে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই রোহিঙ্গা।
কারা কর্মকর্তাদের মতে, একই সেলে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি বন্দিদের একসঙ্গে রাখার ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতারও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিআইজি-প্রিজন মোহাম্মদ ছগির মিয়া বলেন, “রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি বন্দিদের সামাজিক বাস্তবতায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু তাদের একই সেলে রাখতে হচ্ছে। এতে এক পক্ষের অপরাধপ্রবণতা অন্য পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় রোহিঙ্গা বন্দিদের জন্য পৃথক কারাগারের পাশাপাশি অন্তত তিনটি নতুন বিশেষায়িত কারাগার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
এ কারণে মাদক মামলার আসামি, কিশোর অপরাধী এবং এলাকার বন্দিদের জন্য আলাদা কারাগারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে গড়ে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, বেকারত্ব, সীমিত শিক্ষার সুযোগ এবং আর্থিক প্রলোভনের কারণে অনেক রোহিঙ্গা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে আরসা, আরএসও, এআরএ ও ইসলামিক মাহাজকে ঘিরে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা প্রায়ই আলোচনায় আসে।
এদিকে গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন কারাগার নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের প্রস্তাবে নতুন চারটি কারাগারের পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী এবং লামা উপজেলায় সাতটি উপকারাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকায় পুরোনো চৌকি আদালত থাকলেও কোনো কারাগার নেই। ফলে দুর্গম অঞ্চল থেকে আসামিদের জেলা কারাগারে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভোগান্তি তৈরি হয়।













