কক্সবাংলা ডটকম :: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলেছে জার্মানি।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বলেছেন, ইউক্রেন ও ইসরাইলের প্রতি বার্লিনের দৃঢ় অবস্থানের কারণে অনেক দেশের সমর্থন হারাতে হয়েছে।
পাশাপাশি রাশিয়াও জার্মানির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লবিং করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জার্মানি।
তবে পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য রাষ্ট্রের (WEOG) জন্য নির্ধারিত দুটি আসনে জয়ী হয় পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়া।
ভোটে পর্তুগাল পায় ১৩৪ ভোট, অস্ট্রিয়া ১৩১ ভোট এবং জার্মানি পায় ১০৪ ভোট।
ফল ঘোষণার পর ওয়াডেফুল এ ঘটনাকে ‘তিক্ত পরাজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতি জার্মানির অটল সমর্থন অনেক দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
একই সঙ্গে রাশিয়া যে নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির মতো একটি কণ্ঠস্বর দেখতে চায় না, সেটিও গোপন কোনো বিষয় নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া জার্মানির বিরুদ্ধে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির বিশেষ দায়িত্ববোধ ও অবস্থানও ভোট কম পাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।
যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কী এই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ?
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব এ পরিষদের ওপর ন্যস্ত। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময়ই ভবিষ্যৎ সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ পরিষদ গঠন করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদই জাতিসংঘের একমাত্র সংস্থা, যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন কিংবা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এ পরিষদের।
পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। এ দেশগুলো ‘পি-৫’ নামে পরিচিত এবং প্রত্যেকের হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। বাকি ১০টি সদস্য রাষ্ট্র দুই বছরের জন্য নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং তাদের কোনো ভেটো ক্ষমতা নেই।
নতুন সদস্য কারা?
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ অর্জন করেছে অস্ট্রিয়া, কিরগিজস্তান, পর্তুগাল, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং জিম্বাবুয়ে। তারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিষদে থাকবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, কিরগিজস্তান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আসনের জন্য ফিলিপাইনের সঙ্গে চার দফা ভোটাভুটির পর তারা প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্জন করে।
জার্মানির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই নির্বাচন?
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি জানিয়ে আসছে। জাপান, ভারত ও ব্রাজিলের সঙ্গে মিলে দেশটি পরিষদ সংস্কারের পক্ষে সক্রিয় প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছে।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জার্মানির ভূমিকা আরও জোরালো করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে অস্থায়ী সদস্যপদ অর্জনকে বার্লিন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে দেখছিল। এ কারণে নির্বাচনে ব্যর্থতা জার্মানির জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফলাফলের পর চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, “দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা প্রার্থী হয়েছিলাম, কিন্তু লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। তবে এতে জাতিসংঘে জার্মানির দায়িত্ব ও ভূমিকার কোনো পরিবর্তন হবে না। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেই জার্মানি কাজ চালিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, জাতিসংঘে আর্থিক অবদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অবদানকারী দেশ জার্মানি।
এদিকে, মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া অধিবেশনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।














