কক্সবাংলা ডটকম :: মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল ও বৈজ্ঞানিক অর্জন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এখন তার দীর্ঘ যাত্রার শেষ অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবজাতির গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে কাজ করা এই মহাকাশ স্টেশনকে ২০৩১ সালের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে নাসা এবং তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থাগুলো।
১৯৯৮ সালে প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ISS বর্তমানে মানবজাতির সবচেয়ে বড় কৃত্রিম মহাকাশ গবেষণাগার।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই স্টেশনটি মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসবাস ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মহাকাশের কঠিন পরিবেশে থাকার কারণে স্টেশনটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুরোনো হয়ে পড়ছে।
এসব অবকাঠামো সচল রাখতে বিপুল ব্যয় ও জটিল রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হচ্ছে।
ফলে বিজ্ঞানীরা এখন থেকেই এর নিরাপদ অবসানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেশনটিকে মহাকাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না।
বরং একটি বিশেষ ডিঅরবিট যান ব্যবহার করে ISS-কে নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করানো হবে।
এরপর এর অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি নির্জন অঞ্চলে পতিত হবে।
এলাকাটি “স্পেসক্রাফট সেমেট্রি” বা মহাকাশযানের কবরস্থান নামে পরিচিত, যেখানে অতীতে বহু অবসরপ্রাপ্ত মহাকাশযানের শেষ পরিণতি ঘটেছে।
ISS তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ২৮০ জনেরও বেশি মহাকাশচারীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, জলবায়ু গবেষণা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নে এই স্টেশনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসবাসের অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রেও এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ISS-এর অবসান কোনো যুগের সমাপ্তি হলেও এটি মহাকাশ অনুসন্ধানের শেষ নয়। বরং এর মাধ্যমে শুরু হবে নতুন এক অধ্যায়।
ভবিষ্যতে বেসরকারি মহাকাশ স্টেশন, চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি এবং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরের আরও উচ্চাভিলাষী মিশনের পথ সুগম হবে।
২০৩১ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রিত অবসানের মাধ্যমে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রকল্পগুলোর একটির সমাপ্তি ঘটবে।
তবে সেই সমাপ্তিই নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রযুক্তি এবং মহাকাশ জয়ের আরও বৃহত্তর স্বপ্নের সূচনা করবে।














