বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বানের পানিতে ভাসছে চকরিয়া মাতামুহুরী : বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢলের পানি, দুর্ভোগে মানুষ

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: পাঁচ দিনের বিরামহীন ভারী বৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে দুই উপজেলার অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সেকারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবার কারণে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক সবধরনের সেবাখাতে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

এছাড়া বাড়িঘর এবং সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই উপজেলার অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে ভারী বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে বৃহস্পতিবার ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরের উপর পাহাড় ধসে পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ওয়াহিদুল ইসলাম তৌসিফ (১২) ও রুমি আক্তার (১৫) নামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নিহত শিশু ওয়াহিদুল ইসলাম তৌসিফ স্থানীয় মছনিয়াকাটা এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনির শিক্ষার্থী এবং রুমি আক্তার একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে ও বরইতলী দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছেন বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান। নিহত শিশুরা সম্পর্কে পরস্পর চাচাতো জেঠাতো ভাই বোন বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢলের পানি। উজান থেকে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল তোড়ে বৃহস্পতিবার ভোরে বিশাল অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার।

জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, টানা বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীতে বন্যার পানি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে। বৃষ্টি এবং বন্যার দকল কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কার কাজ করা সম্ভব হবে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার পানির তোড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন বীজতলা ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। উপকূলীয় চিংড়িজোনের শত শত মৎস্য ঘের ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষিরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বেশিরভাগ নীচু এলাকা চারদিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় টিউবওয়েল গুলো পানিতে অকেজো হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সুপেয় পানির সংকট এবং শুকনো খাবারের অভাবে পানিবন্দি মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। এসময় বন্যা কবলিত
পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং দুর্গত মানুষের মাঝে সরকারি বরাদ্দে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। দ্রুত ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এই বিভাগ এর আরো খবর

টেকনাফে একদিনে ভেসে এলো তিন মরদেহ

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর