কক্সবাংলা ডটকম(২৭ জুন) :: সুইজারল্যান্ডে দু’পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষর হওয়ার পর ফের মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল আমেরিকা ও ইরান।
শুক্রবার ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে তীব্র বিমান হামলা চালাল মার্কিন ফৌজ।
আমেরিকার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান, যার জবাবেই এই নিখুঁত এয়ারস্ট্রাইক চালানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর পাল্টা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারী গার্ড কর্পস (IRGC)।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে ফের উত্তেজনা হরমুজ় প্রণালীতে। পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোনের হামলার অভিযোগ উঠল।
এর পরেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও।
দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি শান্তি চুক্তিতে সই করে ইরান এবং আমেরিকা।
এর পরেই স্থায়ী চুক্তি করার জন্য সুইৎজ়ারল্যান্ডে আলোচনায় বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। তার পরেই এই হামলা।
সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই প্রথম সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা।
আমেরিকার সঙ্গে শান্তিবৈঠকে একাধিক বার এসেছে হরমুজ় প্রণালীর কথা। প্রথম থেকেই হরমুজ় প্রণালী নিজেদের দখলে রাখার কথা বলে এসেছে ইরান।
আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকেও সেই কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় তেহরান।
তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) পার হতে পারবে না বলেও জানানো হয়।
যদিও ইরানের এই দাবি মানতে নারাজ ওয়াশিংটন।
এ দিকে, বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে এই নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ‘এভার লাভলি’ নামে একটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান বলে অভিযোগ।
তবে ওই পণ্যবাহী জাহাজের কোনও ক্ষতি হয়নি। ইরানি ড্রোনের হামলার অভিযোগ ওঠার এক দিনের মাথায় সেখানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।
বৃহস্পতিবারের হামলার কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। শুক্রবার এই কথা জানিয়েছে আমেরিকান সেনাবাহিনী।
‘আমেরিকান যুদ্ধবিমানগুলি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রাখার জায়গা এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলিতে (Radar station) হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ দিয়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, তখন ইরানের এমন বিপজ্জনক আচরণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে বলেও দাবি করেছে সেন্টকম।
পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানি বাহিনীর অযৌক্তিক আগ্রাসন যুদ্ধবিরতিকে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি তাদের।
ওই হামলার পরেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে সতর্ক করার পরেই ওই হামলা চালায় IRGC।
ইরান কোনও রকম হামলা চালালে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তেহরানও জানিয়েছে, হামলা হলে তারাও ছেড়ে দেবে না। তাদের ওপর কোনও হামলা হলে তার কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন আইআরজিসি।
কাঁপল ইরানের সিরিক বন্দর, হাই-অ্যালার্টে হরমুজ প্রণালী
মার্কিন হামলার পর ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর সিরিকের (Sirik) একটি জেটির কাছাকাছি এলাকায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার পরই সিটিক টাওয়ার ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ছবি তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতেই বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বিদেশি তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
লেবানন-ইজরায়েল চুক্তি এবং হিজবুল্লার প্রত্যাখ্যান
উপকূলীয় এই উত্তেজনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে অন্য একটি কূটনৈতিক মোড় দেখা গিয়েছে। ইজরায়েল এবং লেবানন আমেরিকার মধ্যস্থতায় হিজবুল্লা গোষ্ঠীর সঙ্গে শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেখানে হিজবুল্লার নিরস্ত্রীকরণ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লা গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে সাফ জানিয়েছে, তারা এই শর্ত মানবে না।














