নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
শনিবার জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি, বসতঘর এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কুতুবদিয়ার মানুষ বছরের পর বছর উপকূলীয় ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ত পানির আগ্রাসনের কারণে চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ অনেক আগেই দূর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সেই প্রত্যাশা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে কুতুবদিয়ার জন্য একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অনুমোদন করানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে। ফলে বরাদ্দের অর্থ অপচয় ও লুটপাট হয়েছে এবং আজও দ্বীপবাসী একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে উন্নয়নের নামে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে মেগা লুটপাট হয়েছে। এর ফলে কুতুবদিয়ার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্বীপবাসী বারবার অবহেলার শিকার হয়েছে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে বৈঠক করে এবং লিখিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের আগেই জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সংসদ সদস্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিয়েছেন।
তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কুতুবদিয়ার মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
শেষে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমি অতীতেও কুতুবদিয়ার মাটি ও মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। কুতুবদিয়াকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”














