কক্সবাংলা ডটকম :: তাঁকে প্রথম একাদশে না দেখতে পেয়ে হতাশ হয়েছিলেন বিশ্ব জুড়ে ফুটবল ফ্যানেরা। কিন্তু সমর্থকদের বেশি সময় নিরাশ করলেন না লিওনেল মেসি। জর্ডনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ফ্রি কিক থেকে ম্যাজিক দেখালেন আর্জেন্টাইন মহাতরকা। বিশ্বকাপ কেরিয়ারে নিজের ১৯ তম গোল করার পাশাপাশি গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৩-১ গোলে জয় নিশ্চিত করলেন। অপর দুটি গোল করেন লো সেলসো ও লাউতারো মার্টিনেজ।
আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আগেই জানিয়েছিলেন, শুরু থেকে মাঠে দেখা যাবে না দলের ক্যাপ্টেনকে। তবুও তাঁকে এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন ভক্তরা। তাঁদের হতাশ করলেন না লিওনেল মেসি। পরিবর্ত হিসেবে নেমেও দেখালেন ম্যাজিক। ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি বল জড়িয়ে দিলেন জালে।
স্কোরশিটে নাম তুললেন জিওভানি লো সেলসো এবং লাউতারো মার্তিনেসও। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় তুলে নিল আর্জেন্তিনা। জয়ের হ্যাটট্রিক করে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নকআউটে পৌঁছল তারা।
৩ জুলাই রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভের্দের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্তিনা।
একটা সময় ছিল, যখন আর্জেন্তিনার আক্রমণের অধিকাংশই গড়ে উঠত লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ২০২২ সালে বিশ্বজয়ের পরেই অনেকটা পাল্টেছে সেই ছবিটা। রবিবার বিশ্বকাপেও দেখা গেল সেটা। নক আউটে যাওয়া আগেই নিশ্চিত হওয়ায় এই ম্যাচে প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন করেন স্কালোনি। তাতেও শুরু থেকেই দাপট দেখায় আর্জেন্তিনা।
লো সেলসোর দুরন্ত গোল, ছন্দে লাউতারো
১৯ মিনিটের মাথায় লিড নেয় আর্জেন্তিনা। বক্সের ডান প্রান্তে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোলে নজর কাড়েন জিওভানি লো সেলসো। মেসির মতোই কার্লিং শটে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। ৩০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান বাড়ায় আর্জেন্তিনা।
নিজেদের বক্সে জর্ডনের ডিফেন্ডার আল রাশদান ফাউল করেন আর্জেন্তিনার সেনেসিকে। VAR চেক করে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেস। বিশ্বকাপে এটাই প্রথম গোল তাঁর। ২-০ গোলে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
সুপার সাব মেসি, ফ্রি-কিকে দুরন্ত গোল
৬০ মিনিটের মাথায় মাঠে নামেন মেসি। গোটা স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে উচ্ছ্বাসে। তিনি নামার পরে আরও ছন্দে ফেরে আর্জেন্তিনা। মেসির পাশাপাশি ম্যাক অ্যালিস্টার, আলমাদা, ভ্যালেন্তিন বারকোদেরও নামান স্কালোনি। নেমেই বেশ কয়েকটি টাচ, থ্রু বল বাড়িয়ে নজর কাড়েন মেসি, ৮০ মিনিটে আসে সেই প্রত্যাশিত মুহূর্ত।
বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্তিনা। সেখান থেকে বাঁক খাওয়ানো নীচু শটে সরাসরি গোল করেন মেসি। বাঁ প্রান্তের কোণে বল জড়িয়ে যায় জালে। এ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না জর্ডানের গোলকিপারের। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার নজির গড়লেন মেসি।
শেষে ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্তিনা।














