রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদা পতাকা নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে পড়ার আশঙ্কা

🗓 রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

👁️ ১৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

👁️ ১৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ জুন) :: ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর দৃশ্য নতুন নয়।

তবে এবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরবি হরফে কালিমাখচিত বিশেষ নকশার সাদা পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব পতাকা প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পতাকা টাঙানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক নয়; বরং ইসলামের কালিমা সংবলিত একটি ধর্মীয় নিশান।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় এ ধরনের প্রতীক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল বার্তা বহন করতে পারে।

তাদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত কিছু প্রতীকের সঙ্গে এ পতাকার দৃশ্যগত মিল থাকায় বিদেশি গণমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১৭ জুন রাতে রাজধানীর শনির আখড়ায় একদল তরুণ যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে সারিবদ্ধভাবে কালিমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা টাঙান।

২৭ জুন কক্সবাজারের টেকনাফে রাস্তার দুই পাশে কালেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

শনিবার  শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় সড়কের দুই পাশে সারি সারি এসব পতাকা দেখা যায়। ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদ্রাসা-পড়ুয়া একদল যুবক এসে শাহপরীর দ্বীপের রাস্তা এবং জেটি ঘাটে পতাকাগুলো টাঙিয়ে দেন। পরে সেগুলোর ছবি তুলে নিজেরাই সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

পরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বগুড়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর,কক্সবাজার ও নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের পতাকা টাঙানোর খবর পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পতাকা অপসারণ করলেও পরে আবার তা টাঙানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বে প্রতীক ও চিহ্ন শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও বিভিন্ন অর্থ বহন করে।

কোনো প্রতীক যদি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো সহিংস বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিল পায়, তাহলে তা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে বিষয়টিকে শুধু অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে অন্য ধরনের পতাকা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি অতিরঞ্জিত না করে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন তিনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর বলেন, বাস্তবে বাংলাদেশে হামাস বা এ ধরনের কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থানের দাবি ভিত্তিহীন।

তবে অতিউৎসাহী কিছু কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, জনগণের এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা দেশের স্থিতিশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগ, শ্রমবাজার কিংবা আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতির কারণ হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদুল আলম বলেন, ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য শোডাউন ও প্রচারণা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের এই সময়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ড, যা দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ী নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এ ধরনের বিতর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন এবং রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এ অবস্থায় দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হলে তা বিদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও শ্রমবাজারে অযাচিত সংশয় সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে।

তিনি বলেন, এটি কেবল ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের স্বার্থ বিবেচনায় এমন সংবেদনশীল বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সব পক্ষের দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ আচরণ জরুরি।

WhatsApp-Image-2026-06-27-at-9.30

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর