কক্সবাংলা ডটকম :: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে এসে তারা যে শুধু নাম লেখাতে আসেনি তার প্রমাণ দিয়েছে কঙ্গো। এ বার ইংল্যান্ডকে তা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিল।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও হ্যারি কেনদের কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছে মুত্থুস্বামীরা। ম্যাচের ৭৫ মিনিট এগিয়ে ছিল কঙ্গো।

ম্যাচের ৭ মিনিটে গোল পান কঙ্গো ব্রায়ান সিপেঙ্গা। মাঝমাঠের কাছ থেকে ডি-বক্সে লম্বা করে ক্রস দেন শসেল এমবেম্বা। বল ফাঁকায় পেয়ে যান ব্রায়ান সিপেঙ্গা।
তিনি মাটি ঘেঁষা শট নেন ও বলটা ইংল্যান্ডের কিপারের হাতের নিচ দিয়ে চলে যায়। পিছিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা হকচকিয়ে যায় ইংল্যান্ড। কারম প্রথম গোলটার সময়ে তাদের ডিফেন্স নিজেদের জায়গাতে ছিল না।
কিন্তু ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার চেষ্টার খামতি রাখেনি, যদিও কিছুই লাভ হয়নি লড়াইয়ের। কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল ম্পাসি একের পর শট বাঁচাচ্ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম পজ়িটিভ আক্রমণ আসে ম্যাচের ২৯ মিনিটে। ক্রস দেন ডেকলাইন রাইস। ফাঁকায় পেয়ে হেড করেন জুড বেলিংহাম।
কিন্তু বাঁ হাত দিতে তা আটকে দেন স্পাসি। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে সমতা ফেরাত ইংল্যান্ড, কিন্তু হ্যারি কেনের বল আটকে দেন ডিফেন্ডার তুয়ানজ়েবে। ফিরতি বলে রাশফোর্ড শট নিলেও গোললাইন সেভ করেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা।
ইংল্যান্ড এই সময়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। তখনই অর্থাৎ ম্যাচের ৪১ মিনিটে গোলের সুযোগ পায় কঙ্গো, কিন্তু পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ইংল্যান্ড আরও কয়েকটা সুযোগ তৈরি করলেও তা আটকে দেন কঙ্গোর গোলকিপার।

দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের হাতে অবশ্য অলআউট আক্রমণে যাওয়া ছাড়া আর রাস্তা ছিল না। তারা সেটাই করেছে। একই ছন্দে খেলতে থাকে। অন্যদিকে একই ছন্দে ছিলেন কঙ্গোর গোলকিপার স্পাসি। একের পর এক শট আটকাচ্ছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত ইংল্যান্ড ৫টা শট করলেও গোল পায়নি।
তবে এই অপেক্ষা অবশ্য খুব বেশিক্ষণ করতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বদলি নামা অ্যান্থনি গর্ডন বাজিমাত করেন। তাঁর বাড়ানো ক্রসে ডি বক্সের মাঝামাঝি জায়গায় লাফিয়ে উঠে হেড দেন কেন, বলটা স্পাসির হাতে লেগে ঢুকে যায় গোলপোস্টে। সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে হ্যারি কেন চতুর্থ গোল করেন।
এগিয়ে যেতে একই ছন্দে খেলে ইংল্যান্ড। ফলও পায় ১০ মিনিটে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে পাস পেয়ে হালকা ড্রিবল করে জায়গা বানিয়ে জোরাল শটে গোল করে কেন। শেষ বেলায় বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেয়েছিল কঙ্গো। যদিও তাদের শট কাজে লাগেনি, অনেক উপর দিয়ে বল বেরিয়ে যায়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পরও জয় পেল ইংল্যান্ড। এর আগে ৯ ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পর ৭টিই হেরেছিল তারা আর ড্র হয়েছিল ২ ম্যাচ। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। ৬ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড তাদের পরের ম্যাচ খেলবে।














