হেলাল উদ্দিন,টেকনাফ :: মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আলোচিত সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রশাসন বলছে, তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়নি; বরং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আবেদনটি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য তদন্ত ও মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৬২৪৮/২০২৬-এ গত ১০ জুন দেওয়া আদেশ অনুযায়ী মুজিবুর রহমানের পুনর্বহালের আবেদন আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আবেদনটির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি চিঠি আমাদের হাতে এসেছে।
বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় জবাব দিতে বলা হয়েছে। আমরা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাঠাব।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মুজিবুর রহমান জেলা প্রশাসকের ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখের একটি আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
আদালত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে করা পুনর্বহালের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সেন্টমার্টিন কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মুজিবুর রহমান আটক হন।
ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান (২) ফয়েজুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখের এক পত্রে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইউএনওর তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় পর্যালোচনার পর জেলা প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমানে এলাকায় নেই।
তিনি যদি সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধি হতেন, তাহলে সেন্টমার্টিনের মানুষের পাশে থাকতেন। সেন্টমার্টিনের সাধারণ মানুষ তাকে খুঁজছে পুলিশে দেওয়ার জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়াত উল্লাহ খামেনি বলেন, তিনি আবার দায়িত্বে ফিরলে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।
আমরা সেন্টমার্টিনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের পাশে থাকার কারণে আমাকে সহ ছাত্রদের পুলিশের মাধ্যমে অনেক হয়রানি করেছে।
সেন্টমার্টিনের আবারো ফিরে আসলে আমরা তাকে প্রতিহত করতে বাধ্য হব।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় নাম জড়ানো একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির পুনর্বহালের উদ্যোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তাঁদের দাবি, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল বা পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের ভবিষ্যৎ এখন আদালতের নির্দেশনা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।














