নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের একটি সরকারি স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে মাছ আহরণের অভিযোগ উঠেছে।
এতে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে প্রায় পাঁচটি গ্রামের ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিদিন স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে মাছ ধরে।
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে এমনিতেই মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এর মধ্যে স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, মগনামা কাটাফাঁড়ি ব্রিজ-উজানটিয়া করিমদাদা মিয়ার জেটিঘাট সড়কের মটকাভাঙা এলাকার লায়ন মুজিবের বাড়ি সংলগ্ন সরকারি স্লুইসগেটে স্থানীয় আব্বাস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত জাল বসিয়ে মাছ আহরণ করছেন।
এই স্লুইসগেট দিয়ে রুপাইখাল হয়ে পানি নিষ্কাশন হয়। কিন্তু জাল বসানোর কারণে পানি আটকে গিয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
এর ফলে মটকাভাঙা, দরদরিঘোনা, কুমপাড়া, বাইন্যাঘোনা, ধারিয়াখালী ও মুহুরীপাড়া গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথটি বন্ধ হয়ে থাকায় জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় এবং মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে পানির তীব্র স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্লুইসগেটের জাল অপসারণ সম্ভব হয়নি। পরে তারা ফিরে যান। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আধাঘন্টার মধ্যে জাল তুলে ফেলার জন্য নির্দেশ দেন।
এলাকাবাসী দ্রুত স্লুইসগেট থেকে জাল অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন,খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সঙ্গে এসিল্যান্ড মহোদয়ও ছিলেন।
জাল অপসারণের জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জাল বসালে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে শতর্ক করেছেন এসিল্যান্ড।














