সরওয়ার কামাল,মহেশখালী :: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্মরণকালের অন্যতম ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা।
এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে, ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
উপজেলার পৌরসভা, কুতুবজোম, মাতারবাড়ী, ধলঘাটা ও ছোট মহেশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
পৌরসভার ঘোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, তাদের শেষ সম্বল হিসেবে থাকা বসতঘরও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরিবার নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটালেও রান্না করে খাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। কয়েকদিন ধরে মানুষের দেওয়া খাবার খেয়েই দিন কটছে তাদের।
একই এলাকার রহিমা বেগম বলেন, কার্যকর কালভার্ট না থাকায় প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এবার ঘরে পানি ঢুকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে পৌরসভার ঘোনাপাড়া, কুতুবজোম, মাতারবাড়ীর জালিয়াপাড়া ও ধলঘাটা এলাকায় দেখা যায়, অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ঘোনাপাড়ায় নির্মিত অহনা কনভেনশন হল নির্মিত হওয়ার পর পানি বন্দি হওয়াতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ না করায় বর্ষার পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে পুরো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মহেশখালীর তরুণ সমাজসেবক ফয়সাল আমিন ও উপজেলা প্রশাসন।
পৌরসভার ঘোনাপাড়া, পুটিবিলা, দাসী মাঝিরপাড়া ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এলাকায় পানিবন্দী পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
৮ জুলাই রাতে মহেশখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
ইউএনও ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, টানা বর্ষণে উপজেলার পৌরসভাসহ একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বহু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।














