শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস : মানবিক সংকটের নির্মম বাস্তবতা

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ১২০ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ১২০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা সম্পাদকীয়(১০ জুলাই, ২০২৬) :: কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহ বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নিজ দেশ মিয়ানমারে নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব শিশু নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন নিয়ে শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছিল। কিন্তু দুর্যোগের কাছে তাদের সেই স্বপ্ন নির্মমভাবে ভেঙে গেছে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা। এই অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত লাখো মানুষ এখনও চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস ও বন্যার উচ্চ ঝুঁকির মুখে পড়ে। পাহাড় কেটে নির্মিত অস্থায়ী বসতি এবং ভূমির দুর্বল ধারণক্ষমতার কারণে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। সীমিত পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার বসবাস, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় মানবিক সংকট মোকাবিলাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দিয়ে যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে এত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

এ কারণে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক তহবিল নিশ্চিত করা জরুরি।

উখিয়ার আট শিক্ষার্থীর এই করুণ মৃত্যু বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা। আশা করা যায়, এই ট্র্যাজেডি রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও মানবিক সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

আইনজীবী সহকারী পরিষদ, উখিয়া’র আত্মপ্রকাশ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর