কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজার শহরের পর্যটনকেন্দ্রিক কলাতলী এলাকার সুগন্ধা পয়েন্টে সরকারি জমি ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য, পথচারীদের চলাচল ও জনসাধারণের ভোগান্তির অভিযোগের মধ্যে রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রোববার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে উচ্ছেদ অভিযান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা পুলিশ, বিচকর্মী, আনসার ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, টিনশেড স্থাপনা ও অন্যান্য অবৈধ কাঠামো সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগসহ স্থাপনাগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামোও অপসারণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রশাসনের এই অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের অনেককে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে দোকানের মালামাল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকানের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক ব্যবসায়ী এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান আকস্মিকভাবে পরিচালনা করা হয়নি। দোকানগুলোতে মালামাল থাকায় ব্যবসায়ীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেকে স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম সাংবাদিকদের বলেন, “দোকানগুলোতে মালামাল থাকায় মানবিক কারণে ব্যবসায়ীদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। এরপরও মালামালসহ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ চলাচল করেন। সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট স্থাপন করায় পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলের দুর্ভোগ কমানো এবং সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু সুগন্ধা পয়েন্ট নয়, সমুদ্রসৈকতসহ কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া কোনো সিন্ডিকেট বা দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, কলাতলী-সুগন্ধা পয়েন্ট কক্সবাজারের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে এখানে যানবাহন ও মানুষের চাপ বেড়ে যায়। এর মধ্যে সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা দখল করে অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠলে যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি জমি ও সড়ক দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পর্যটন এলাকার শৃঙ্খলা, পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।














