বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশে নিজস্ব স্টেশন গড়ছে ভারত, শুরু হয়েছে নির্মাণ কার্যক্রম

🗓 বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: একসময় মহাকাশে স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র বা স্পেস স্টেশন নির্মাণ ছিল কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলোর সক্ষমতার বিষয়। তবে দ্রুত বিকাশমান মহাকাশ প্রযুক্তির ধারাবাহিকতায় এবার সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে যাচ্ছে ভারত।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) ইতোমধ্যে দেশের প্রথম নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ (Bharatiya Antariksha Station-BAS) নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।

ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে BAS-এর প্রথম মডিউল ‘BAS-01’ উৎক্ষেপণ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও চারটি মডিউল মহাকাশে পাঠিয়ে সেগুলোকে সংযুক্ত করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৫ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন।

প্রস্তাবিত মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) অবস্থান করবে এবং সেখানে ভারতীয় মহাকাশচারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করবেন। একেকটি মিশনে মহাকাশচারীরা ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ইসরো।

এই স্টেশনে জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশে ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা, নতুন উপাদান বা ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স, মানবদেহের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিবেশের প্রভাব এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হবে। এছাড়া মহাকর্ষহীন পরিবেশে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর মাধ্যমে এমন তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পৃথিবীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন ভবিষ্যতে চন্দ্র অভিযান, মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং মঙ্গলসহ আরও দূরবর্তী গ্রহে মানব মিশনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ভারতের গগনযান কর্মসূচিরও একটি স্বাভাবিক ও কৌশলগত সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডার সমন্বিত অংশীদারিত্ব। অন্যদিকে চীন ইতোমধ্যে নিজস্ব ‘তিয়ানগং’ মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করছে। ভারতের BAS প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশটি বিশ্বের অল্প কয়েকটি রাষ্ট্রের কাতারে শামিল হবে, যাদের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৩ সালে প্রথম এই মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ইসরো প্রকল্পটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন শুধু একটি মহাকাশ প্রকল্প নয়; এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং আত্মনির্ভরতার প্রতীক। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করবে।

মহাকাশে ভারতের এই নতুন যাত্রা ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আন্তঃগ্রহ অভিযানের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে যাচ্ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর