রবিবার ৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবল সংকটে ধুঁকছে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : হোয়াটসঅ্যাপে চলে সেবা কার্যক্রম

🗓 শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার প্রায় দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

প্রতিবছর হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের অনেকেই বদলি হয়ে চলে যান। ফলে জনবল সংকট যেন হাসপাতালটির স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতির কারণে একদিকে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন,

অন্যদিকে সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামও পর্যাপ্ত ব্যবহারের অভাবে অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার অনুমোদিত ২১টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭ জন।

শূন্য রয়েছে ১৪টি পদ। সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু, চক্ষু এবং নাক-কান-গলা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।

এছাড়া নতুন সৃজিত ১১টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৬ জন। বাকি ৫টি পদও শূন্য রয়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসক সংকট প্রকট।

ছয়টি কেন্দ্রে সহকারী সার্জনের অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপাঞ্চলে কর্মরত থাকার অনাগ্রহ, আবাসন সংকট এবং দ্রুত বদলির সুযোগের কারণে কুতুবদিয়ায় পদায়ন হওয়া অনেক চিকিৎসক ও নার্স দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন না। ফলে হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা বারবার ভেঙে পড়ে।

জনবল সংকটের প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের এক্স-রে, ডেন্টাল ইউনিট ও অপারেশন থিয়েটারেও। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও সহায়ক কর্মীর অভাবে অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এসব সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক মুহাম্মদ মুকাররম কুতুবী এবং সচেতন নাগরিক ডা. রিয়াশাত আজিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার এ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, দ্বীপবাসীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে কেবল পদায়ন নয়, চিকিৎসকদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মস্থলে ধরে রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরায় অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের বেতন-ভাতাও বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার অভাব উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক ধরে রাখার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

উপজেলা পর্যায়ে আবাসন সুবিধার সংকট থাকায় অনেক জুনিয়র কনসালট্যান্ট কর্মস্থলে অবস্থান করতে আগ্রহী হন না। দেশের অনেক উপজেলাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।”

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মারুফ বলেন, “জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ডা. সৈকত দাশ সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত রোগীসেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ইসিজি রিপোর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি দ্রুত মতামত প্রদান করেন।”

স্থানীয়দের দাবি, কুতুবদিয়ার মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলের জন্য বিশেষ নীতিমালা, আবাসন সুবিধা এবং ন্যূনতম নির্দিষ্ট সময় কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত না করলে জনবল সংকটের এই চক্র কখনোই ভাঙবে না।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর