রোতাব চৌধূরী :: চট্টগ্রাম অঞ্চল উপযোগী বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাত ও প্রযুক্তি কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিনা, ময়মনসিংহের প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিসের পরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান মোল্যা।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকার পরিচালক মো. মসীহুর রহমান, বিনার প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার, উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, বিনা ময়মনসিংহের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান এবং বিনা উপকেন্দ্র নোয়াখালীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইলিয়াস হোসেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিকের সার্বিক সহযোগিতায় এবং বিনা নোয়াখালীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শাহেদ হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে কী-নোট উপস্থাপন করেন ডিএই চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক ওমর ফারুক এবং কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক তপন কুমার রায়।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, কৃষক প্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষক-কৃষাণীসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিনা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন কৃষি প্রদর্শনী স্থাপনের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ সংগ্রহ ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষি-প্রতিবেশ উপযোগী টেকসই নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ।
এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপকূলীয়, পাহাড়ি ও লবণাক্ত এলাকাগুলোর উপযোগী কৃষি প্রযুক্তি ও ফসলের জাত নিয়ে গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লবণাক্ত ও প্রতিকূল পরিবেশে চিনাবাদাম, সরিষা, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, খরা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী উচ্চফলনশীল ও সহনশীল জাতের সম্প্রসারণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালা শেষে বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।













