মোঃ রমজান আলী, মহেশখালী :: কক্সবাজারের মহেশখালীতে গহীন পাহাড়ে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) নামে এক অস্ত্র তৈরির কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য কারিগরেরা পালিয়ে যায়।
শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি পশ্চিম পাড়ার গভীর পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে দুটি বন্দুকের কাঠের বাট, দুটি হাতে তৈরি কাঠের বন্দুকের বাট, ছোট-বড় চারটি ট্রিগার মেকানিজম, অস্ত্র তৈরির ছয়টি ব্যারেলের অংশ, ছোট-বড় আটটি ট্রিগার, রিসিভার কভারের সদৃশ পাঁচটি অংশ, ছোট-বড় ১৫টি স্প্রিং ও অস্ত্রের ১৫টি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া দুটি লোহার হাতুড়ি, লোহা ধার দেওয়ার একটি লেদ মেশিন, দুটি লোহার বাটাল, একটি লোহার পাইপ, একটি ড্রিল মেশিন, তিনটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি করাত, একটি হাতে চালিত ড্রিল মেশিন, একটি পরিমাপের স্কেল, একটি ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার, একটি লোহা কাটার গ্রাইন্ডার, একটি দেশীয় তৈরি কুড়াল, একটি বড় টর্চলাইট, একটি ইলেকট্রিক হ্যাকসো এবং একটি লোহা কাটার হ্যান্ড করাত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নমি উদ্দিন (৪২) রয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আসছিলেন।
পরে এসব অস্ত্র আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ বা বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে ভাড়া করা একটি ঘরে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছিল।
দুর্গম ভূপ্রকৃতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এ ধরনের কার্যক্রম চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য যাচাই করে পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলোর ব্যবহার এবং অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর-২৫, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬; জিআর নম্বর-২৫৫/২৬।













