বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সীমান্তে ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা

🗓 শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ২১৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫

👁️ ২১৮ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :: মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘর্ষ ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। ফলে সংঘাতপূর্ণ ওই অঞ্চলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও ওষুধসংকট।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-রাখাইনের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার অভিমুখে ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ‘গলার কাঁটায়’ পরিণত হওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়ের মাঝে আবার নতুন করে ঢল শুরু হলে আরও চাপে পড়বে বাংলাদেশ। অপরাধপ্রবণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়বে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে সাবেক কূটনীতিক ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল আশ্রয় শিবিরগুলোতে জীবনযাত্রার মান ও মানবিক সেবার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যে সক্রিয় থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আরও বাড়তে পারে। তাই মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এ সংকট নিরসন জরুরি। তা না হলে দেশের জন্য ভয়ংকর সংকট অপেক্ষা করছে।’

রোহিঙ্গা কমিনিউটি নেতা আনিস মোস্তাফা বলেন, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মি দুই পক্ষই আগ্রাসন চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্য এবং ওষুধসংকট। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাখাইনে মানবিক পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে।’

জানা যায়, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে সংঘাত। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে বিপন্ন।

সংঘাত ও মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে।

ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গারা, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র অভাবে ভুগছে। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর শিকারে পরিণত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ধ্বংস করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার পুনরায় বাংলাদেশ অভিমুখে ঢল নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আরকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যকার যুদ্ধের জেরে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে আরও ১ লাখ রোহিঙ্গা। এতে গত ৬ বছরে দেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১৩ লাখের বেশি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা ঘোষণা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। এ প্যাকেজের আওতায় পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

বুধবার ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই সহায়তা প্যাকেজের আওতায় কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা সরবরাহ করা হবে।

এছাড়া ১ লাখ ৭৫ হাজার নারী ও কিশোরীদেরকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং যৌন, শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদেরও সহায়তা করা হবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘এ অর্থায়ন সরাসরি মাঠপর্যায়ে জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাজ্যের এই নতুন সহায়তায় খাদ্য, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও জীবনরক্ষাকারী অন্যান্য সেবা দেওয়া হবে এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করা হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুতরা যাতে তাদের প্রাপ্য সমর্থন, সুরক্ষা, মর্যাদা এবং সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’

২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা সংকটে ৪৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সহায়তা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টায় অন্যতম নেতৃস্থানীয় দীর্ঘমেয়াদি অবদান।

সর্বশেষ এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লন্ডনের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

এ অর্থায়ন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এনজিওসহ বিশ্বস্ত বহুপাক্ষিক ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সহায়তার মূল ক্ষেত্রগুলো হলো ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা, খাদ্য সহায়তা, স্যানিটেশন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা।

যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো নিরসন এবং রাখাইন রাজ্যে এখনো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা মানুষদের জন্য অবাধ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে টেকসই আন্তর্জাতিক সমন্বয় জরুরি।’

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং উন্নয়ন, বাণিজ্য, জলবায়ু সহযোগিতা ও কমনওয়েলথের মাধ্যমে গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

রামুতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর

রামুতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬