কক্সবাংলা ডটকম :: আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে তারা হামলা চালিয়েছে।
তালেবানের একজন মুখপাত্রের দাবি, তাদের এ ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলায় ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান গত বৃহস্পতিবার আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের সীমান্তের ভেতরে একটি বাজারে বোমা হামলা চালিয়েছে। খবর বিবিসি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে চালানো অতর্কিত হামলায় তাদের ২৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২০০ জন তালেবান ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান।
দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ডন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, আফগান হামলাগুলো বিনা উসকানিতে করা হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল।
আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি ইটের জবাব পাথর দিয়ে দেবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের মতো আফগানিস্তানকেও উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে, যাতে তারা পাকিস্তানের দিকে বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে সাহস না করে।”
তালেবানদের হামলার নিন্দা জানিয়ে নাকভি বলেন, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর আফগান বাহিনীর গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সীমান্তে সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুল তার মাটিতে পাকিস্তানকে আক্রমণের জন্য সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান সরকার।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় পক্ষই কুনার-কুররাম অঞ্চলে ছোট অস্ত্র ও কামান ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান তালেবানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে তারা তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে তাদের মাটি থেকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের অনুমতি দিয়েছে।
আফগান তালেবান সরকার অবশ্য সবসময়ই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এ সামরিক উত্তেজনার সময়ে আফগান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সপ্তাহব্যাপী ভারত সফরে রয়েছেন।
দিল্লি জানিয়েছে, তারা কাবুলে আবার দূতাবাস চালু করবে, যেটি চার বছর আগে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
গতকাল পাকিস্তানের আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতে আফগান তালেবান ও ভারতীয় মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠী বিনা উসকানিতে পাক-আফগান সীমান্ত এলাকায় হামলা চালায়।
বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে মদদ দিতে এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, আত্মরক্ষার স্বার্থে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সীমান্তজুড়ে চালানো এ আক্রমণ প্রতিহত করেছে এবং তালেবান বাহিনী ও তাদের সহযোগী খাওয়ারিজদের ভারি ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে আফগান ভূখণ্ডে তালেবান শিবির, সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ফিতনা আল খাওয়ারিজ, ফিতনা আল হিন্দুস্তান ও আইএসকেপি নেটওয়ার্কে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি, উসকানিমূলক হামলার এ ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অঞ্চলটিতে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ভারত সফরে রয়েছেন।
গত মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরকারী সৌদি আরব এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা যাতে না বাড়ে সে আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। উভয় পক্ষকেই সংলাপ, কূটনীতি ও সংযমকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার।














