কক্সবাংলা রিপোর্ট :: ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নতুন রূপে প্রস্তুত করা হয়েছে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
স্বাধীনতা দিবসে জেলার সর্বস্তরের মানুষ ও সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্তৃতি সংগঠন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর সেনারা।
বুধবার সকালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার গিয়ে দেখা যায়,বর্ণাঢ্য রঙ তুলির আঁচড়ে সাজানো হয়েছে পুরো শহীদ মিনার চত্বর।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্মৃতিসৌধের ফটক থেকে মিনার পর্যন্ত পুরো এলাকা ধুয়ে-মুছে চকচকে করে তুলেছেন। পরিষ্কার করা হয়েছে সৌধচূড়া থেকে হেঁটে যাওয়ার পথগুলোও।
লাল ও সবুজ বাতিতে আলোক সজ্জা করা হয়েছে শহীদ মিনারের প্রতিটি স্থর।
কারণ রাত পোহালেই বাঙালি জাতির এক সমুদ্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সে ২৬ মার্চ অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবস।
বৃহস্পতিবার দিনটি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালন করবে জেলাবাসী।
রাত ১২টা এক মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো হবে।
একই সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা করা হবে দিবসটির।
জানা গেছে, পুলিশ, সেনাবাহিনী,র্যাব সহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখবেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখবেন।
এছাড়া সূর্যোদয়েরর সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
শুধু তাই নয়, দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন রঙের পতাকা দিয়ে সজ্জিত করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার ফুটবল স্টেডিয়ামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৫ মার্চ গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: আঃ মান্নান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন,ভবিষ্যত প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নকে ধারণ করে নতুন দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এতে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ, বিয়াম ফাউন্ডেশনের পরিচালক লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, জেলা জামায়াত নেতা শহিদুল আলম বাহাদুর,শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক,জেলা শ্রমিক দল সভাপতি রফিকুল ইসলাম,প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো শাহিন মিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শক্তি,স্বপ্ন এবং স্মৃতিকে লালন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।পাশাপাশি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ্য থাকার আহবান জানান তারা।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও তালিকা করার উপরও জোর দেন বক্তারা।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সুবিধাজনক সময়ে জেলার মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহিদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা,শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের উপর দুর্লভ আলোকচিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।















