শনিবার ৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরিয়া আমদানিতে অনিশ্চয়তা : রাশিয়া থেকে এক লাখ টন সার কিনতে চায় বিসিআইসি

🗓 রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

👁️ ২৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

👁️ ২৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৩১ মে) ::  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ইউরিয়া সার আমদানিতে।

প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

বেসরকারি দরপত্রের মাধ্যমে চার লাখ টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার টন সরবরাহের আশ্বাস পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের কৃষি খাতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে রাশিয়া থেকে এক লাখ টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বিসিআইসি। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান জানান, রাশিয়ার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান তিন লাখ টন ইউরিয়া সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিকভাবে এক লাখ টন আমদানির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির মতো ‘ফর্মুলা প্রাইজ’-এ সার সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ এর ৬৮(১) ধারার আওতায় জরুরি জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়া দূতাবাসের সহযোগিতায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত উৎস—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে ইউরিয়া সংগ্রহের চেষ্টা চালায় বিসিআইসি। চার লাখ টন ইউরিয়া আমদানির জন্য দুই দফায় তিনটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।

প্রথম দফার দুই লাখ টনের দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। দ্বিতীয় দফায় মাত্র ৫০ হাজার টন সরবরাহে দুটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়। পরে পুনঃদরপত্রে আরও ৭৫ হাজার টনের প্রস্তাব পাওয়া যায়।

ফলে চার লাখ টনের বিপরীতে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। বাকি চাহিদা পূরণে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে বিসিআইসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার মোট চাহিদা ২৬ লাখ ২২ হাজার টন। নিরাপদ মজুদ হিসেবে আরও পাঁচ লাখ টন যোগ করলে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩১ লাখ টনের বেশি। এর মধ্যে আসন্ন আমন মৌসুমেই প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া।

গত ২৪ মে পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার মজুদ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার টন, যেখানে ন্যূনতম নিরাপদ মজুদসীমা ধরা হয় চার লাখ টন। তবে বিসিআইসি কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে চালু থাকা তিনটি কারখানায় দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদিত হচ্ছে, যা দিয়ে আমন মৌসুমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, একসময় দেশের ইউরিয়া চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হতো। বর্তমানে মোট চাহিদার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

বিসিআইসির তথ্যমতে, তাদের অধীন পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩১ লাখ ৫৫ হাজার টন। তবে পুরোনো কারখানাগুলোর সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বছরে ২০ লাখ টনের বেশি ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহার করে সৌদি আরব থেকে ২২ হাজার টন ইউরিয়া বহনকারী একটি জাহাজ বাংলাদেশের পথে রয়েছে, যা আগামী ৫ জুন দেশে পৌঁছানোর কথা। তবে দীর্ঘ রুট ব্যবহারের কারণে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিসিআইসির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম এবং জাহাজ ভাড়া উভয়ই বেড়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরে ইউরিয়া আমদানিতে সরকারের ব্যয় বাড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে সার সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালির বাইরে বিকল্প উৎস ও রুট থেকে আমদানি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর