কক্সবাংলা ডটকম :: পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে মোহাম্মদ আখতার নামের এক ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
তাছাড়া, ওয়াকাস আরিফ (৩৮) নামের আরেক ব্রিটিশ নাগরিককে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আঞ্চলিক একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।
এই ব্রিটিশের পরিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার মুক্তির জন্য চেষ্টা চালানোর মধ্যেও তাকে আটকে রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষের পর সোমবার অঞ্চলটিতে নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ চলাকালে এ ঘটনা সামনে এল।
যুক্তরাজ্যের পিটারবরোর বাসিন্দা ছিলেন মোহাম্মদ আখতার। গত ৯ জুন পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের কোটলি শহরে স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে তিনি নিহত হন।
আখতারের পরিবারের দাবি, তিনি বিক্ষোভে অংশ নেননি। বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলি তার শরীরে লাগে।
আখতারের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাদ জানিয়েছেন, আখতারের বুকের পাশে গুলির ক্ষত ছিল। তবে পরবর্তীতে পরিবারের ওপর চাপ আসতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা এর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেননি।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের নটিংহামের বাসিন্দা ওয়াকাস আরিফকে গত ৫ জুনের বিক্ষোভের পর মিরপুর শহর থেকে আটক করে নিয়ে যায় পাকিস্তানি রেঞ্জার্স ও নিরাপত্তা বাহিনী।
তার বোন সুমেরা জানান, ওয়াকাসের দুই ভাই বিক্ষোভে যোগ দিলেও ওয়াকাস বিক্ষোভে যাননি। তবে ওয়াকাসের দুই ভাই আন্দোলনে জড়িত থাকায় তাকে কোনও অভিযোগ ছাড়াই তুলে নিয়ে গিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে।
ওয়াকাসের স্ত্রী বারিশা কামপুলভি জানিয়েছেন, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনও তার স্বামীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেনি।
তবে ২৬ জুন তাদেরকে জানানো হয় যে, ব্রিটিশ কনস্যুলার কর্মকর্তারা ওয়াকাস যে কারাগারে রয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। পরে ওয়াকাসের শারীরিক অবস্থা ভাল আছে বলেও পরিবারকে জানানো হয়।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-এর নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলন চলছে।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছে। পাকিস্তান সরকার এই সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছে এবং গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত মাসে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, যদিও সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে পারিবারিকভাবে ওই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ব্রিটিশ নাগরিকরা বিক্ষোভ-সংঘর্ষে পড়ে কিভাবে ভুক্তভোগী হচ্ছে সে চিত্রই উঠে এসেছে মোহাম্মদ আখতার নিহতের ঘটনায়।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এফসিডিও-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং অঞ্চলটিতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তানি হাই কমিশন এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি।












