কক্সবাংলা ডটকম(৩১ মে) :: দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও মে মাসে কিছুটা বেড়েছে। ফলে চলতি মাসে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে পর্যন্ত দেশের শেয়ারবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪১টি। এপ্রিল মাস শেষে এ সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৬১ হাজার ১২৩টি। অর্থাৎ মে মাসের প্রথম ২৪ দিনেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬১৮টি বিও হিসাব।
ঈদুল আজহার ছুটির কারণে ২৪ মে-পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় ওই দিন পর্যন্ত হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে মোট ১৭ কার্যদিবসে লেনদেন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ২৭১টি নতুন বিও হিসাব যুক্ত হয়েছে।
বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক পরিবর্তন
মে মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে এ শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব রয়েছে ৪৩ হাজার ২২৮টি, যা এপ্রিল শেষে ছিল ৪৩ হাজার ২০৪টি। অর্থাৎ এক মাসে ২৪টি নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ২৬টি কমেছিল। তবে মে মাসে সেই নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে আবারও বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি চিত্র এখনও পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। ধারাবাহিক পতনের ফলে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তা কমে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ১০১টিতে। বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরের তুলনায় এখনও ১২ হাজার ২৮৪টি হিসাব কম রয়েছে।
বাড়ছে দেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা
স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব রয়েছে ১৬ লাখ ৪ হাজার ২৫৮টি, যা এপ্রিল শেষে ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৮টি। অর্থাৎ মে মাসেই ৪ হাজার ৫২০টি নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৩টি। সে হিসাবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নতুন যুক্ত হয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫টি বিও হিসাব।
তবে বিও হিসাব বৃদ্ধির এ ধারা সত্ত্বেও বাজার এখনও ২০২৪ সালের শুরুর অবস্থানে ফিরতে পারেনি। ২০২৪ সালের শুরুতে মোট বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি। বর্তমানে তা ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪১টিতে অবস্থান করছে। ফলে ওই সময়ের তুলনায় এখনও ১ লাখ ৭ হাজার ৮১০টি হিসাব কম রয়েছে।
নারী ও পুরুষ বিনিয়োগকারী উভয়ের সংখ্যাই বেড়েছে
সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে।
বর্তমানে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব রয়েছে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩টি। ২০২৫ সালের শেষে এ সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৩টি। ফলে চলতি বছরে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ২০ হাজার ৬৭০টি। এর মধ্যে শুধু মে মাসেই যোগ হয়েছে ৩ হাজার ৮২৬টি হিসাব।
অন্যদিকে নারী বিনিয়োগকারীদের নামে বর্তমানে বিও হিসাব রয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩টি। ২০২৫ সালের শেষে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৯টি। ফলে চলতি বছরে নারী বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ৪ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে মে মাসে বেড়েছে ৭১৮টি হিসাব।
কোম্পানি হিসাবেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি কোম্পানির নামে খোলা বিও হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৮ হাজার ২৫৫টি, যা ২০২৫ সালের শেষে ছিল ১৭ হাজার ৮০৩টি। সে হিসাবে চলতি বছরে ৪৫২টি নতুন কোম্পানি বিও হিসাব যুক্ত হয়েছে। শুধু মে মাসেই বেড়েছে ৭৪টি হিসাব।
একক ও যৌথ হিসাব দুটিতেই প্রবৃদ্ধি
বর্তমানে একক নামে পরিচালিত বিও হিসাবের সংখ্যা ১২ লাখ ৫ হাজার ৬৮৬টি। ২০২৫ সালের শেষে এ সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭১৫টি। ফলে চলতি বছরে একক বিও হিসাব বেড়েছে ২২ হাজার ৯৭১টি। এর মধ্যে মে মাসেই বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৬টি।
অন্যদিকে যৌথ নামে পরিচালিত বিও হিসাব বর্তমানে রয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৮০০টি। ২০২৫ সালের শেষে যার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৭টি। অর্থাৎ চলতি বছরে যৌথ বিও হিসাব বেড়েছে ১ হাজার ৯৪৩টি। মে মাসে নতুন যুক্ত হয়েছে ১৬৮টি যৌথ হিসাব।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিও হিসাবের ধারাবাহিক বৃদ্ধি সেই আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়া ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।














