কক্সবাংলা ডটকম(১১ আগস্ট) :: ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ২২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কানাডা।
দেশটির বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।
সিবিএসএ-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ছয় মাসে কানাডা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১০ হাজার ৬০৭ জন নাগরিককে অপসারণ বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত পাঠানোর তালিকায় ২২৭ জন বাংলাদেশি নিয়ে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে রয়েছে।
তবে কানাডা থেকে অপসারণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায়ও বাংলাদেশের নাম রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৯৬৮ জন বাংলাদেশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সিবিএসএ-র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটি থেকে ৩ হাজার ৩২৩ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
২০২০ সালের পর এবারই প্রথম মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে শীর্ষ স্থানে এলো ভারত, কারণ এর আগের টানা পাঁচ বছর মেক্সিকো এই তালিকার শীর্ষে ছিল।
এবার দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেক্সিকো থেকে ১ হাজার ৫৭৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পরবর্তী ক্রমানুসারে রয়েছে হাইতি থেকে ৪৩১ জন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭২ জন, কলম্বিয়া থেকে ৩৫৪ জন, রোমানিয়া থেকে ২৯৩ জন, বাংলাদেশ থেকে ২২৭ জন, পাকিস্তান থেকে ২০৭ জন, নাইজেরিয়া থেকে ২০৫ জন এবং চিলি থেকে ১৯০ জন।
বিগত বছরগুলোর উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ২০২০ সালে ৩০৮ জন নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছিল কানাডা।
তবে পরবর্তী বছরগুলোতে বা ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শীর্ষ ১০-এর তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
অন্যদিকে, ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভারতে ২০২১ সালে ৬০৩ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬ জন, ২০২৩ সালে ১,১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২,০০৪ জন এবং ২০২৫ সালে ৩,৭৭৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
অভিবাসন নিয়ম অমান্য করা, রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া, ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করা এবং অভিবাসন বা ভিসা জালিয়াতির কারণে সাধারণত কানাডা থেকে নাগরিকদের অপসারণ করা হয়।
তবে সিবিএসএ এসব কারণ আলাদাভাবে সংরক্ষণ করলেও দেশভিত্তিক নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করে না।
কানাডার অপসারণ ব্যবস্থা মূলত তিন ধরনের আদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রথমত, ডিপার্চার অর্ডারের অধীনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৩০ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় কানাডা ত্যাগ করতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ে না ছাড়লে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন অর্ডারে রূপান্তরিত হয়।
দ্বিতীয়ত, এক্সক্লুশন অর্ডারের মাধ্যমে ১ থেকে ৫ বছরের মতো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কানাডায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
তৃতীয়ত, ডিপোর্টেশন অর্ডার স্থায়ীভাবে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে পরবর্তীতে কানাডা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ লিখিত অনুমতি পেলে তা শিথিল হতে পারে।
সম্প্রতি অস্থায়ী বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির পর কানাডা সরকার তাদের অভিবাসন নীতি পুনর্বিন্যাস করছে। এর অংশ হিসেবে অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি তারা নিয়মকানুন ও প্রয়োগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে।













